হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ: তেলের বাজার ফের অস্থির
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ সোমবার বাজার খোলার সাথে সাথেই ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটার আগেই তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে: ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭% বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.১৬ ডলারে পৌঁছেছে। ডব্লিউটিআই (WTI): ৮.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ১০৪.৮২ ডলারে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই গত শনিবার ভেঙে যায়। মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ থেকেই এই প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হলেও এর ফলে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের পরিচালক অমৃতা সেন জানান, অবরোধ কার্যকর হলে দৈনিক অতিরিক্ত ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল বাজার থেকে হারিয়ে যাবে। বর্তমানে এমনিতেই দৈনিক প্রায় এক কোটি ব্যারেল সরবরাহ স্থগিত রয়েছে। রিস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জে লেওন মনে করেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি না হলে তেলের দাম দ্রুতই ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বব ম্যাকনালি প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা কোনো হামলা চালাবে কি না।
গত শুক্রবারও তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। শান্তি আলোচনার আশায় ব্রেন্ট ক্রুড ৯৫.২০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৯৬.৫৭ ডলারে নেমে এসেছিল, যা ছিল ২০২২ সালের আগস্টের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন। তবে আলোচনার ব্যর্থতা এবং অবরোধের খবর সেই পরিস্থিতিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়ে বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
গত শুক্রবারও তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল। শান্তি আলোচনার আশায় ব্রেন্ট ক্রুড ৯৫.২০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৯৬.৫৭ ডলারে নেমে এসেছিল, যা ছিল ২০২২ সালের আগস্টের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন। তবে আলোচনার ব্যর্থতা এবং অবরোধের খবর সেই পরিস্থিতিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়ে বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের মতো প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
Comments