ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তি: চীনের ‘গ্যারান্টার’ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার নেপথ্যে শক্তিশালী 'জামিনদার' বা গ্যারান্টার হিসেবে চীনের নাম উঠে এসেছে। পাকিস্তান ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি টেকসই
গত মঙ্গলবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ইসলামাবাদ সূত্র জানিয়েছে, সেই সংকটময় মুহূর্তে চীনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ইরানকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেন: "মঙ্গলবার রাতে যুদ্ধবিরতির আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বেইজিংয়ের কার্যকর মধ্যস্থতায় ইরান শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।"
খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রক্রিয়ায় চীনের অবদানের কথা স্বীকার করে বলেছেন, "ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার ক্ষেত্রে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।"
স্থায়ী শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে ইরান একজন শক্তিশালী গ্যারান্টার দাবি করছে, যাকে তারা বিশ্বাস করতে পারে। জামিনদার হিসেবে রাশিয়ার নাম আসার সুযোগ থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমাদের কাছে মস্কোর গ্রহণযোগ্যতা কম। অন্যদিকে, চীন তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষের সাথেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছে। বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। আবার পাকিস্তানের অবকাঠামো উন্নয়নেও বেইজিংয়ের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে।
ইসলামাবাদে হতে যাওয়া এই সংলাপে কয়েকটি জটিল বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে:
- হরমুজ প্রণালি: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-পথটি উন্মুক্ত রাখা।
- পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ।
- লেবানন ইস্যু: পাকিস্তান ও ইরান লেবাননকে এই চুক্তির আওতায় রাখতে চাইলেও ইসরায়েল এতে আপত্তি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র লেবানন ইস্যুতে পৃথক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
চীন প্রকাশ্যে খুব একটা প্রচারণায় না থাকলেও নেপথ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিশেষ দূত মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত 'শাটল ডিপ্লোম্যাসি' চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে অন্তত ২৬ বার ফোনালাপ করেছেন।
সাউথ এশিয়ান বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যেহেতু বর্তমান মার্কিন প্রশাসন বা ইসরায়েলকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না, তাই চীনের জামিনদার হওয়া এই চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারে।
Comments