যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৫৪
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। বুধবারের এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৫ জন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরায়েলে হামলা বন্ধ রাখলেও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবাননজুড়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
লেবাননের জরুরি পরিষেবা সংস্থার (সিভিল ডিফেন্স) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে রাজধানী বৈরুতে। সেখানে ৯২ জন নিহত এবং ৭৪২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬১ জন।
অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে নাবাতিয়েহ এলাকায় ২৮ জন, বালবেকে ১৮ জন এবং আলেই জেলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া টায়ার, সিদন ও হেরমেল এলাকাতেও কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ ১০০টির বেশি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে 'পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'আজকের এই অপরাধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির প্রতি চরম অবজ্ঞা। ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে সব নিয়ম লঙ্ঘন করছে।'
হিজবুল্লাহ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তারা ইসরায়েলে সব ধরনের হামলা স্থগিত রেখেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে লেবানন ফ্রন্টও এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের আপস ছাড়াই হিজবুল্লাহর ওপর তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। ইসরায়েলের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, লেবাননের ক্ষেত্রে নয়।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এই ভয়াবহ হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মাথায় এমন হামলা শান্তি আলোচনাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Comments