বিচার বিভাগ ও গুম ইস্যুতে সরকার পেছনে হাঁটছে: টিআইবি’র উদ্বেগ
বর্তমান বিএনপি সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং গুম প্রতিরোধের মতো মৌলিক ইস্যুতে 'পেছনে হাঁটার' ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আজ সোমবার ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া জানায় সংস্থাটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও সরকার জনগুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অধ্যাদেশ রহিত বা অনিশ্চয়তায় ফেলেছে বলে দাবি করে টিআইবি।
১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু গ্রহণে সংসদীয় কমিটির সুপারিশকে সাধুবাদ জানালেও 'সরকারি হিসাব নিরীক্ষা' এবং 'স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত' সংশোধনীগুলোকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে বলে মনে করে সংস্থাটি।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী ও 'এক পা এগিয়ে দুই পা পিছিয়ে যাওয়া'র শামিল বলে অভিহিত করেছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো এখনই আইনে পরিণত না করে 'পরে আনার' সুপারিশকে আইনি অনিশ্চয়তা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি ৪টি অধ্যাদেশ বহাল রাখা, ৬টি সংশোধন এবং ২টিকে পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানায়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "অধ্যাদেশ নিয়ে যে খেলাটা হচ্ছে, সেখানেও আগের মতো ভেতর থেকে প্রতিরোধ আসছে। রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র—উভয় ক্ষেত্রেই আমলাতন্ত্র এখনো মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি অতীতে নিজেরা অনাচারের শিকার হওয়ার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, সেই স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা বিচার বিভাগ ও দুদকের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে—এমনটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। তবে সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডে সেই আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি'র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আশা প্রকাশ করেন যে সরকার 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রক্ষা করবে।
Comments