৫৪ বছর পর ফের চাঁদের পথে মানুষ: আজ সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু
অ্যাপোলো যুগের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চাঁদের দেশে পাড়ি দিচ্ছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এখন সাজ সাজ রব। বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট 'এসএলএস'-এ (SLS) চড়ে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন চার নভোচারী। ঐতিহাসিক এই অভিযানের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা বা কাউন্টডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
'আর্টেমিস-২' মিশনে অংশ নিচ্ছেন অভিজ্ঞ চার নভোচারী—নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। বর্তমানে তারা বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, যাতে যাত্রার আগে কোনো শারীরিক সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে।
শক্তিশালী রকেটের পিঠে চড়ে মহাকাশে পৌঁছানোর পর 'ওরিয়ন' নামক ক্যাপসুলটি আলাদা হয়ে যাবে। মহাকাশযানটি পৃথিবীর চারপাশে একটি ডিম্বাকৃতির কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে। এই সময়ে নভোচারীরা যানের যন্ত্রপাতি ও পৃথিবীর সাথে যোগাযোগব্যবস্থা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তারা শুরু করবেন চাঁদের কক্ষপথের দিকে সেই কাঙ্ক্ষিত যাত্রা।
নাসার আবহাওয়া কর্মকর্তাদের মতে, উৎক্ষেপণের অনুকূল পরিস্থিতির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে ঘন মেঘ বা বাতাসের বেগ বেড়ে
বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি সরাসরি দেখার সুযোগ থাকছে। বুধবার সকাল থেকেই নাসার ইউটিউব চ্যানেলে জ্বালানি পূর্ণ করার দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। এছাড়া দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট থেকে 'নাসা প্লাস' ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মূল উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এই মিশনটি সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদের মাটিতে মানুষের পুনরায় হাঁটার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। মূলত চাঁদে স্থায়ী মানব বসতি গড়ার লক্ষ্যেই 'আর্টেমিস-২' মিশনকে প্রথম ও প্রধান ধাপ হিসেবে দেখছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: রয়টার্স, নাসা।
Comments