জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় জনজীবন বিপর্যস্ত
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যেসব পাম্প খোলা রয়েছে, সেগুলোতে তেলের জন্য দেখা গেছে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি, ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে চালকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। সামান্য তেলের আশায় অনেক চালক ট্রাক, বাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে রাতভর পাম্পের সামনে অবস্থান করেন। আজ রোববার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্ঘুম রাত কাটিয়েও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উল্টো অনেক পাম্পে 'তেল নেই' লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও রাইড শেয়ারিং কর্মীরা। মিরপুর থেকে আসা এক চালক আক্ষেপ করে বলেন, "রাত দুইটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন সকাল ১০টা বাজে, পাম্প থেকে বলছে তেল শেষ। আজ কামাই-রুজি সব বন্ধ।"
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। রাস্তায় বাসের সংখ্যা অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম। ফলে অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই সুযোগে সিএনজি ও রিকশা চালকরা কয়েক গুণ বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে করে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হবে এবং দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেল সংগ্রহ করতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, "সকাল থেকে তেল নিতেই রাস্তায় সময় পার হয়ে যাচ্ছে। দিনের অর্ধেক সময় যদি পাম্পেই চলে যায়, তবে অফিস বা অন্য কাজ করা অসম্ভব।"
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
Comments