সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আজ রবিবার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এই রায়টি প্রকাশ করা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের লিখিত এই রায়টি দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেছেন যে, আসন্ন চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্তমান সংসদ চাইলে এই ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংযোজন বা বিয়োজন করার এখতিয়ার রাখবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
প্রেক্ষাপট ও আইনি পরিক্রমা
-
শুরু (১৯৯৬): বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
-
বাতিল (২০১১): আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন, যার ফলে এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
-
পুনর্বিবেচনা (২০২৪-২৫): ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার (Review) আবেদন করা হয়।
-
চুড়ান্ত রায়: আপিল বিভাগ পূর্বের রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে দেশে পুনরায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দেয়।
রায়ের পর বিএনপির আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, "এই রায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিজয় নয়, বরং এটি পুরো জাতির জন্য একটি মাইলফলক।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের গণতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি করেছিলেন।
Comments