শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যেন সামনে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়।
সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ চালু হবে এটা তো বলা যাবে না। এখন আলাপ-আলোচনা হবে, তদন্ত হবে, কিভাবে আমরা তাড়াতাড়ি করতে পারি সেটা নিয়ে কাজ চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় দেওয়া যাবে না।'
থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ ছিল, কিছু অংশ ভাঙতে হবে, নেটওয়ার্ক সমস্যা ছিল, ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তারপরও থার্ড টার্মিনাল চালু করা কেন সম্ভব হলো না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'কেন চালু হচ্ছে না, সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছিল। প্রশ্নটা তাদের করতে পারতেন। এখন প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যেন সামনে চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।'
ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, 'হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের (থার্ড টার্মিনাল) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে। তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
তিনি আরো বলেন, 'বিমান মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী এসেছেন, সো দে আর অলসো ট্রাইং টু আন্ডারস্ট্যান্ড হোয়াট দ্য প্রবলেম ওয়াজ। এটা ছয় বছরের পুরনো ইস্যু, দেখা যাক।' থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে ফের টেন্ডার হবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারব না। এটা একটা জি-টু-জি ইস্যু।'
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরো সাত হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণ শুরু হয়। এ খরচের বেশির ভাগ আসছে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকার কাছ থেকে। শাহজালালে বর্তমানে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এই দুটি টার্মিনালের আয়তন এক লাখ বর্গমিটার। তৃতীয় যে টার্মিনালটি হচ্ছে, সেটির আকার বর্তমান দুটি টার্মিনালের দ্বিগুণের বেশি। দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে। ঢাকা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে জাপানের মিত্সুবিশি ও ফুজিটা এবং কোরিয়ার স্যামসাং—এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ করছে।
Comments