বৈশ্বিক উত্তেজনায় আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবার বেড়েছে। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (এক আউন্স=২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ১ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ টাকায়। শতকরা হিসেবে এই দাম বৃদ্ধির হার বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিই এই দামবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাজার বিশ্লেষক এএফপিকে বলেন, "সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমগুলোতে এমন বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত/সম্প্রচারিত হয়েছে যেগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাকে উদ্বৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা করার সম্ভাবনা আছে শতকরা ৯০ ভাগ। এসব প্রতিবেদনের জেরেই বেড়ে গেছে স্বর্ণের দাম।"
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সংলাপ শুরু হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। ওমানের রাজধানী আম্মানে ইতোমধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষও হয়েছে। দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হয়েছে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায়, তা এখনও চলছে।
গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্দেশিকা নীতিমালায় পৌঁছেছে ইরান। তিনি এ মন্তব্য করার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৯০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ লাখ ৮২০ টাকা)।
২০২৬ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ৩১৩ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৮২ টাকা। তেহরানকে চাপে রাখতে জানুয়ারির মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌবহর পাঠানোর পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপক বেড়ে যায়, যার প্রভাবে চড়তে থাকে স্বর্ণের বাজারও। গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪০৭ টাকা।
অর্থাৎ শতকরা হিসেবে জানুয়ারির শুরুর দিকে স্বর্ণের যে দাম ছিল, তার তুলনায় শেষ দিকে দাম বেড়ে গিয়েছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।
এদিকে স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে রূপারও। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপা বিক্রি ৭৭ দশমিক ৭ ডলার। শতকরা হিসেবে এই দাম আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
Comments