জাতীয় পার্টির দুর্গ খ্যাত রংপুর এখন পুরোটাই জামায়াতের দখলে
একদা জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত এরশাদের রংপুর এখন পুরোটাই জামায়াতের দখলে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্মরণকালের রাজনৈতিক পালাবদলে চমক দেখিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির দুর্গ তছনছ করে এবার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে জামায়াতের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। জেলার ছয়টি আসনই এখন তাদের ।
ভোট গননার আগ মূহুর্ত মানুষের ধারনা ছিলো জেলার ছয়টি আসনে রংপুর এক গংগাচড়া, রংপুর দুই বদরগঞ্জ তারাগঞ্জ এবং রংপুর পাচ মিঠাপুকুর এই তিনটি আসন জামায়াত পাবে বিএনপি পাবে দুইটি রংপুর চার কাউনিয়া পীরগাছা এবং রংপুর ছয় পীরগঞ্জ আর একটি মাত্র আসন রংপুর তিন সদর জাতীয় পার্টি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । কিন্তু সকল হিসেব তালগোল পাকিয়ে অবশেষে জেলার ছয়টি আসনই জয়লাভ করেছে জামায়াতের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।
শুক্রবার ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। ঘোষিত ফলাফলে ৬টি আসনের ৫টিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী এনসিপি।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক) জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি'র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭
হাজার ৭০৩ ভোট। এদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এবার রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আবারো ভুল করেছে ।
Comments