নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাটি মূলত পরিবারের প্রধান নারীর হাতে দিতে চাই। এতে একজন নারী মানসিকভাবে শক্তিশালী অনুভব করবেন। চার কোটি পরিবারের মধ্যে যারা পিছিয়ে আছে, তাদের কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২,০০০-২,৫০০ টাকা ক্যাশ অথবা চাল, ডাল, তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তারেক রহমান। একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
তিনি বলেন, গবেষণা বলে, নারীর হাতে রিসোর্স থাকলে তারা তা সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ছোটখাটো ব্যবসায় (যেমন—হাঁস-মুরগি পালন বা সেলাই মেশিন) বিনিয়োগ করেন। এটি ধীরে ধীরে নারীর মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক। প্রতি বছর ১০ লাখ মানুষ বিদেশে যায়, যার মধ্যে ৭ লাখই অদক্ষ। আমরা ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলোকে মডার্ন করতে চাই। কেউ যদি কৃষিতে পড়েও ইলেকট্রনিক্সে আগ্রহী হয়, তবে তাকে সেই স্কিল এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানো হবে। যেমন জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে দক্ষ তরুণদের বিশাল চাহিদা আছে। ৫-১০ বছরের বৈশ্বিক চাহিদা বুঝে আমরা তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলব।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজে প্রতিদিন ২,০০০ মানুষের ভিড় হয়, অথচ সেখানে সেবা দেওয়ার ক্ষমতা ১,০০০ জনের। আমরা যদি সচেতনতা ও প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই কিউ (লাইন) কমিয়ে আনতে পারি, তবে সরকারের ওপর খরচ ও চাপ কমবে। মানুষ উন্নত চিকিৎসা পাবে এবং হাসপাতালের বারান্দায় বেডের অভাবে শুয়ে থাকার হারও কমে আসবে। এটি সময়সাপেক্ষ কাজ, তবে আমরা কনফিডেন্ট।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমাদের স্বাস্থ্য ও মানসিকতার সঙ্গে জড়িত। ঢাকা শহরে প্রতিদিন হাজার-হাজার টন আবর্জনা তৈরি হয় যা থেকে জীবাণু ছড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে মানুষকে সচেতন করা যাতে আবর্জনা কম তৈরি হয় এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করা যায়।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমরা বেসিক মেডিকেল ও হাইজিন ট্রেনিং দিব। ফলে ছোটখাটো অসুখ-বিসুখ হলে তারা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা দিতে পারবে। যখন কোনো অসুখ তাদের আয়ত্তের বাইরে মনে হবে, তখন তারা রেফার করবে। এই রেফারেল সিস্টেম আমরা আস্তে আস্তে গড়ে তুলব।
Comments