ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ: উদ্বেগে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ভূমি গ্রিনল্যান্ড-কে দখলে নিতে চান। আর একে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য লড়াই শুরুর আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে এই বাণিজ্যযুদ্ধ শঙ্কা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং প্রধান ভোক্তা বাজারগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে শুল্ক বাড়লে সেখানে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার ফলে ভোক্তাদের ব্যয় ক্ষমতা কমে যাবে, যার ফলে পোশাকের মতো জরুরি নয় এমন পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি, টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে। একই সময়ে ইউরোপীয় বাজারে পোশাকের গড় দামও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ জানুয়ারি ইইউর শীর্ষ কূটনীতিকরা জরুরি বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের শুল্ক আরোপের পুরোনো পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি আলোচনা করেছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের একাধিক দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পাশাপাশি ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনা না হলে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এসব পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং এর ফলে ভোক্তারা কম পণ্য কিনবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি মারাত্মক চাপে পড়তে পারে। বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়লে আমদানি ও রপ্তানি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে ৩৮.৮২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে। রপ্তানিকারকরা জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্কের প্রভাব ইতোমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চালান কমেছে এবং ইউরোপীয় বাজারে পোশাকের দাম হ্রাস পেয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউরোপে বাংলাদেশি পোশাকের গড় দাম ২.০৬ শতাংশ কমেছে।
সার্বিকভাবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ণমাত্রার বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের জন্য তেমন কোনো ইতিবাচক সুযোগ নেই। বরং দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৈশ্বিক চাহিদা ও দামে চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
Comments