ভেনেজুয়েলা থেকে মাচাদোর পালানোর রহস্য
ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটির বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর পালানোর তিনটি ধাপ ছিল। প্রথমে ছদ্মবেশে আবাসস্থল থেকে তাঁকে নেওয়া হয় একটি নৌযানে। উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার পর তাঁকে নরওয়েগামী একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়।
মাচাদোকে পালাতে সহায়তাকারী দলের নেতৃত্ব দেওয়া এক ব্যক্তি সিবিএস নিউজকে এমনটা জানিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উদ্ধারকারী দল 'গ্রে বুল' ওই অভিযানে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে কেবল সাগর পাড়ি দেওয়ার একটি মুহূর্তের চিত্র পাওয়া যায়।
নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে গত ডিসেম্বরে নরওয়ের অসলোতে যান মাচাদো। তখনই তাঁকে উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্ব দেওয়া ব্রায়ান স্টার্নের সাক্ষাৎকার নেয় সিবিএস। মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সাবেক সদস্য ও 'গ্রে বুল' এর প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান জানান, অভিযানটির নাম ছিল 'অপারেশন গোল্ডেন ডিনামাইট'।
ব্রায়ান স্টার্নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রে বুল কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে (ভেনেজুয়েলা ও প্রতিবেশী দ্বীপ আরুবা) নিজেদের উপস্থিতি গড়ে তুলেছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্রায়ান অভিযানের স্থানগুলো সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে চাননি।
ব্রায়ান বলেন, প্রথমে স্থলপথে তারা মাচাদোকে একটি বাড়ি থেকে বের করেন। ওই বাড়িতে মাচাদো আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর তাঁকে একটি ঘাটে নেওয়া হয়। ছোট নৌকায় উপকূল থেকে দূরে নেওয়ার পর মাচাদোকে বড় নৌকায় তোলা হয়।
সাগর সেদিন উত্তাল ছিল। ব্রায়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্ধকারের মধ্যে একেকটি ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ১০ ফুট (৩ মিটার)। কনকনে ঠাণ্ডা আর পানির ঝাপটায় সবার অবস্থা নাজুক হয়ে যায়। শেষমেশ মাচাদোকে স্থলে নামিয়ে একটি উড়োজাহাজে তুলে দেওয়া হয়।
গ্রে বুল- এর প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় মাচাদো খুবই পরিচিত মুখ। কেউ যাতে তাঁকে চিনতে না পারে সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মাচাদো পালানোর ব্যাপারে বেশ দৃঢ় ছিলেন। বৈরী পরিবেশ নিয়েও কোনো অভিযোগ করেননি। একবার তিনি বলেই ফেলেন, যদি নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়; তাহলে সাঁতরে চলে যাবেন।
অভিযানের অর্থায়ন সম্পর্কে ব্রায়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো অর্থ দেয়নি। দাতাগোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে জানতো।
ভেনেজুয়েলা থেকে কোনো একজনকে উদ্ধার করতে হবে- এমন অভিযানের বিষয় গ্রে বুল যখন প্রথম প্রস্তাব পায়, তখন কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। ব্রায়ান বলেন, নাম না বললেও তিনি মাচাদোর বিষয়ে আন্দাজ করেছিলেন।
গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে মাচাদোর দলের একজন যোগাযোগ করেন। ভেনেজুয়েলা থেকে মাচাদোকে বের করার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ছিল সেটি। আগের চেষ্টা সফল হয়নি। মাচাদোর গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছিল নরওয়ে। তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে যাবেন। তাই উদ্ধার অভিযানের নামকরণ করা হয় 'গোল্ডেন ডিনামাইট'। ব্রায়ান বলেন, আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট অবিস্কার করেছিলেন। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিযানের এমন নামকরণ করা হয়।
ব্রায়ান বলেন, ডিসেম্বরের এক শুক্রবারে তিনি উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রোববার অভিযান শুরু হয়। শেষ হয় মঙ্গলবার। ভেনেজুয়েলা থেকে বের হওয়ার জন্য মাচাদোর দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিকল্প ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনাই চূড়ান্ত হয়।
Comments