প্রথম বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা, প্রজ্ঞাপন জারি
বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করতে দেশে প্রথম বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান বিবেচনায়, সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর দেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আইনজ্ঞরা বলছেন, এমন আদালত প্রতিষ্ঠা হলে ব্যাবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে গতি বাড়বে।
জানা গেছে, বর্তমানে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট আদালত না থাকায় সহকারী জজ থেকে জেলা জজ আদালত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয় অর্থঋণ আদালতে। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সংক্রান্ত বিরোধ হলে তা আন্তর্জাতিক সালিশি (আরবিট্রেশন) বা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সালিশি কেন্দ্রের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া হাইকোর্ট বিভাগে রয়েছে অ্যাডমিরালটি ও কোম্পানি বেঞ্চ। তবে জেলা আদালতগুলোতে বিভিন্ন মামলার চাপ থাকায় বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অনেক বিলম্ব হয়। এতে ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার প্রত্যাশা করছে, এ উদ্যোগ ব্যাবসা-বাণিজ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বাণিজ্যিক বিরোধসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করে তুলতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আশা করা হচ্ছে, সরকারের এই উদ্যোগ ব্যাবসা-বাণিজ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Comments