বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে পর্যটন গবেষণায় নতুন দিগন্ত: সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন, গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের পর্যটন খাতের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন 'ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ' (UTSSOB) এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন 'চায়না আউটবাউন্ড ট্যুরিজম রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (COTRI)-এর মধ্যে আজ বুধবার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি এইচ. এম. হাকিম আলী এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল একরাম। অন্যদিকে, চায়না আউটবাউন্ড ট্যুরিজম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পক্ষে স্বাক্ষর করেন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর ড. উলফগ্যাং জর্জ আরল্ট।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে UTSSOB-এর সহ-সভাপতি তৌফিক রহমানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও আধুনিক ও তথ্যনির্ভর করতে একযোগে কাজ করবে। চুক্তির প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো, যৌথ পর্যটন গবেষণা, গন্তব্যভিত্তিক নিবিড় সমীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত নীতি নির্ধারণে সরকারকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করা। পর্যটন খাতের পেশাদারদের জন্য যৌথ সেমিনার, বিশেষ কর্মশালা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য রক্ষা করে টেকসই, দায়িত্বশীল এবং পুনর্জাগরণমূলক পর্যটন চর্চার প্রসার ঘটানো।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা এবং সেরা পর্যটন অনুশীলনগুলো বাংলাদেশে প্রয়োগ করা সহজ হবে। বিশেষ করে, গন্তব্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের গবেষণাভিত্তিক পর্যটন উন্নয়নকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। চীনের বিশাল পর্যটন বাজার এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
Comments