ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন
৩১ মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন হয়েছে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে, যা মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্ট-এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানটি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শুরু হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে মাইন অপসারণে ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য সোভিয়েত নৌবাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়, যা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা এ. খ্লেভনয় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের অব্যাহত অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ড. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ উপস্থিত বিভিন্ন জেলার মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পুনর্গঠনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা এই ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ২০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দুইজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। রুশ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. আবুল কালাম আজাদ মিস খ্লেভনয়কে একটি স্মারক উপহার দেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে "বাংলাদেশ–রাশিয়া ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশন"-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা মিস খ্লেভনয় উদ্বোধন করেন। নবগঠিত এই ফেডারেশনটি বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০টি সংগঠনকে একত্রিত করেছে, যার লক্ষ্য দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করা।
Comments