রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ'র ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বাংলা কবিতার ইতিহাসে দ্রোহ ও প্রেমের অনন্য কণ্ঠস্বর এই কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে রোববার (২১জুন) তাঁর নিজ গ্রাম মোংলার মিঠেখালিতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ৯টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে মিঠেখালিতে কবির সমাধিতে শোভাযাত্রা সহকারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে সেখানে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় কবির গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত স্মরণসভায় তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। স্মরণসভা শেষে পরিবেশিত হয় রুদ্রের কবিতা ও গান।
১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
১৯৫৬ সালে জন্ম নেওয়া এই কবি তাঁর স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থানের কারণে তিনি 'তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক' হিসেবে পরিচিত।
তাঁর রচিত ও সুরারোপিত 'ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো' গানটি দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়। ১৯৮৭ সালে এ গানটি রচনার পর ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি তাঁকে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা প্রদান করে। 'উপদ্রুত উপকূল' ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি 'সংস্কৃতি সংসদ' থেকে দুবার 'মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন। এছাড়া তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
Comments