মৃত্যুর দর্শন
১. হঠাৎ করেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জরা নামক এক শিকারির শিকার হয়ে গেলেন। ওহ্ কী এক নিষ্ঠুর সময়! তাও এক নিষাদ অপঘাতকের হাতে?
অন্তর্যামী জানতেন। এই প্রক্রিয়ায় মরলোক হতে বিদায় নিতে হয়, এমনটাই প্রকৃতির নিয়ম। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুসুখ নিয়ে মানুষ যা যা বলেন বা পাঠে সৃষ্টি করেছেন; তা দিয়ে মানুষ কেবল — নিজে নিজেরাই ভোগবাদের চাদরে জড়িয়ে রেখেছেন। নিষ্কাম মৃত্যু বাদে সকাম মৃত্যুর ধরনই এমন।
দৃশ্যতঃ ' কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং ' সকাম মৃত্যু বেছে নিয়ে মানুষকে দেখালেন যে, মানুষকেও এমন করে পৃথিবী সংসার ছেড়ে চলে যেতে হবে একদিন। হোক না সে মৃত্যু শত্রুমুখে নানান রকমের করে সমালোচনা; হোক না সে মৃত্যু অপঘাত অপয়া। মৃত্যু তো মৃত্যুই।
অন্ধচোখে যেমন করে নেই হাপিত্যেস সৌন্দর্য নামের মরীচিমায়া, মৃত্যু সময়েও নেই সেই রকমের দেখা না দেখা হাহাকার।
এইত! গেল কিছুদিন আগেও কলম্বাসের দেশ বুকে টেনে পিঠ চাপড়ে দিয়ে যাঁকে বলেছিল,— বন্ধু!
সেই দেশটা এখন প্রধানতম শত্রু। সে এখন বন্ধু বন্দুকের ঠা ঠা মেশিনগানের গুলির বুক-পিঠ বাঁচাতে কখনো কখনো ছুটে চলে যান,মাও সে তুং কিংবা ফিওদর দস্তয়েভস্কি দেশে। বুকে জড়িয়ে পিঠ চাপড়ে রাখা কিংবা থাকার মতো মানুষের সময়ই বা কোথায়?
২. কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের শেষদিকে ভীমের
গদা প্রহারে দুর্যোধন মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে একা পড়ে আছেন। আশেপাশে কেউই নেই। চারিদিকে সে কী এক নির্মম হাহাকার! ডেকে চলেছেন,ওহে বন্ধু অশ্বত্থমা এমন জীবন আসবে, জানতাম যদি — কবেইত সংসার থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে তুলে নিতাম। মৃত্যু মার্গীয় বাণী মমার্থ না বুঝে বন্ধুকে খুশি করতে ছুটে যান,পাণ্ডব শিবিরে। পঞ্চপাণ্ডব মনে করে, দ্রৌপদীর সন্তানদের মেরে দিলেন। এহেন ভয়াবহ রকমের অপরাধ হিসেবে দুযোর্ধন মুখে ভৎর্সিত হলেন।
৩. পৃথিবী ঘূর্ণি নিয়ে বিস্তর আলাপ কথা গবেষণা থেমে নেই। বন্ধুই বন্ধুত্বের সংজ্ঞা পাল্টে দেয়। বন্ধুটিকে নিয়েও চলছে বিষয়আত্তি গবেষণা।
কবে কে হবেন কখন হবেন, কেইবা হবেন কার বন্ধু! সে না হয়, শ্রীকৃষ্ণ দুর্যোধন অভিশপ্ত অশ্বত্থমা সময় বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করে —
মানুষের " নাই বন্ধু দিবস " হিসেবে
হয়তোবা আগামী সময়ের মাঝে কোনো একদিন পালন করবেন।
লেখক : কথাসাহিত্যিক প্রাবন্ধিক ও কবি
Comments