পূজোর ভিড়ে মাথা ঘোরা, বমিভাব? সুস্থ থাকতে যা করবেন
দুর্গাপূজো মানেই নতুন পোশাক, রাত জেগে ঠাকুর দেখা, একের পর এক মণ্ডপে ঘোরা আর বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা। কিন্তু উৎসবের আনন্দের মাঝেই ভিড়, গরম কিংবা ক্লান্তির কারণে শরীর খারাপ হতে পারে। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা শ্বাস নিতে অস্বস্তি হলে মাটি হতে পারে পূজোর পরিকল্পনা।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, অতিরিক্ত ঘাম, শরীরে জলের ঘাটতি, পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়া এবং ধূপ-ধুনোর তীব্র গন্ধ—এগুলির কারণে অনেকের অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনার পাশাপাশি শরীরের যত্ন নেওয়াও জরুরি। ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ বোধ করলে কী করবেন? জেনে নিন কয়েকটি সহজ উপায়।
১. অসুস্থ লাগলে ভিড় থেকে সরে যান
মণ্ডপের ভিতরে মাথা ঘুরলে, বমি বমি ভাব হলে কিংবা দমবন্ধ লাগলে জোর করে ঠাকুর দেখা চালিয়ে যাবেন না। নিরাপদে ভিড় থেকে বেরিয়ে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় বসুন। প্রয়োজন হলে আশপাশের কারও সাহায্য নিন। শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে, বুকে ব্যথা হলে কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
২. সঙ্গে রাখুন জলের বোতল
প্যান্ডেল হপিংয়ের সময় অনেকটা হাঁটাহাঁটি করতে হয়। গরমে ঘাম বেশি হলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত জল পান করুন। একসঙ্গে অনেকটা জল খাওয়ার পরিবর্তে অল্প অল্প করে পান করতে পারেন। অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস খাওয়া যেতে পারে।
৩. খালি পেটে বাড়ি থেকে বেরোবেন না
সকাল থেকে না খেয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও বমিভাব বাড়তে পারে। তাই বেরোনোর আগে হালকা খাবার খেয়ে নিন। ব্যাগে রাখতে পারেন কলা, বিস্কুট বা সহজে খাওয়া যায় এমন শুকনো খাবার। একবারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া কিংবা খুব তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৪. বমিভাব কমাতে আদা বা লেবু রাখতে পারেন
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আদা বমিভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। লেবুর গন্ধ বা স্বাদও কারও কারও কাছে আরামদায়ক মনে হয়। তাই সঙ্গে আদার ছোট টুকরো বা লেবুর স্বাদযুক্ত লজেন্স রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এগুলি সবার ক্ষেত্রে সমান কার্যকর নয় এবং গুরুতর অসুস্থতার বিকল্প চিকিৎসা নয়।
৫. তীব্র গন্ধ এড়িয়ে চলুন
মণ্ডপের ধূপ-ধুনো, আতর, পারফিউম কিংবা খাবারের তীব্র গন্ধে অনেকের মাথা ঘোরা বা বমিভাব বাড়তে পারে। এমন হলে সেই জায়গা থেকে সরে গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আবার ভিড়ের মধ্যে যাওয়ার তাড়াহুড়ো করবেন না।
৬. ক্লান্তি বুঝে বিশ্রাম নিন
একটানা অনেকগুলি মণ্ডপ ঘুরলে শরীরের উপর চাপ পড়তে পারে। তাই মাঝে মাঝে বসে বিশ্রাম নিন এবং নিজের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখুন। খুব গরমের সময়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ বোধ করলে পুজো দেখা বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো।
কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া জরুরি?
বমি হলে অল্প অল্প করে জল বা প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস পান করার চেষ্টা করুন। শরীর কিছুটা স্বাভাবিক হলে হালকা খাবার খেতে পারেন। তবে বারবার বমি, তীব্র মাথাব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে শরীরের সংকেত উপেক্ষা করবেন না। পর্যাপ্ত জল, সময়মতো খাবার, বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললেই অনেকটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন উৎসবের দিনগুলি।
Comments