জ্বরের সময় গোসল নিয়ে যে ভুল ধারণা বিপদ বাড়াতে পারে
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে বিভিন্ন মৌসুমি সংক্রমণ ও জ্বরের প্রকোপ। জ্বর নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়; বরং শরীরে সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যথাযথ বিশ্রাম ও পরিচর্যায় জ্বর ভালো হয়ে যায়। তবে এ সময় কিছু ভুল অভ্যাস অসুস্থতা দীর্ঘায়িত করতে পারে।
জ্বরের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো শরীরে পানির ঘাটতি হতে না দেওয়া। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ঘামের কারণে শরীর থেকে দ্রুত তরল বেরিয়ে যেতে পারে। তাই অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করা দরকার। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস, ডাবের পানি, স্যুপ ও তরলজাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
জ্বরের সময় শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে। এ কারণে ভারী ও সহজে হজম হয় না—এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এ সময় জাউভাত, পাতলা খিচুড়ি, ডাল, নরম সুজি, টোস্টসহ সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। খাবারের পরিমাণ কম হলেও নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
জ্বর হলে গোসল করা যাবে?
জ্বরের সময় গোসল নিয়ে অনেকের মধ্যেই ভুল ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে বরফঠান্ডা বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে—এ ধারণা ঠিক নয়। ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে শরীরে কাঁপুনি শুরু হতে পারে, যা অস্বস্তি বাড়ায় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
অস্বস্তি না থাকলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। শরীর মুছে নেওয়ার প্রয়োজন হলে স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জ্বরের মাত্রা, শারীরিক অবস্থা ও অসুস্থতার কারণ অনুযায়ী করণীয় ভিন্ন হতে পারে।
বিশ্রামও চিকিৎসার অংশ
জ্বরের সময় পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। তাই অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে আরামদায়ক পরিবেশে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
এ সময় নিজের ইচ্ছায় একের পর এক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা জরুরি। জ্বরের কারণ না জেনে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, তাপমাত্রা খুব বেশি উঠলে, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বারবার বমি, খিঁচুনি, অচেতনতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ক্ষেত্রে জ্বরকে অবহেলা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
Comments