চুলের যত্নে হেয়ার স্পা কতটা উপকারী? জেনে নিন
পূজা সামনে। তাই পার্লারগুলোতে বাড়তে শুরু করবে ভিড়। চুলে রং, ফেশিয়ালের পাশাপাশি হেয়ার স্পা করানোর প্রবণতাও বেড়ে যায় এই সময়ে। অনেকের ধারণা, হেয়ার স্পা করলেই চুল পড়া কমে এবং চুল হয়ে ওঠে ঝলমলে। কিন্তু বিষয়টি কি সত্যিই এমন?
আলিয়া ভাটের হেয়ার স্টাইলিস্ট অমিত ঠাকুরের মতে, চুল পড়া বন্ধ করার ক্ষেত্রে হেয়ার স্পায়ের সরাসরি বড় কোনো ভূমিকা নেই। তাঁর ভাষ্য, স্পা করার সময় স্ক্যাল্প ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়, যা চুলের সামগ্রিক পরিচর্যায় সহায়ক। তবে এটিকে চুল পড়া বন্ধের চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
অমিতের মতে, কেরাটিন বা হেয়ার বোটক্সের মতো রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের তুলনায় হেয়ার স্পা তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প। কারণ এতে চুলের স্বাভাবিক গঠন বদলে যায় না।
হেয়ার স্পার উপকার কী?
হেয়ার স্পার অন্যতম প্রধান কাজ হলো চুলের শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমানো। এটি চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চুলকে তুলনামূলকভাবে নরম ও মসৃণ করে।
স্পা করার সময় স্ক্যাল্প পরিষ্কার হওয়ায় চুলের গোড়ায় জমে থাকা ধুলো-ময়লা ও অতিরিক্ত তেল দূর হয়। ফলে স্ক্যাল্প পরিচ্ছন্ন থাকে এবং চুলের স্বাভাবিক তেল উৎপাদন বজায় রাখতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া হেয়ার স্পার পর চুলে সাময়িকভাবে উজ্জ্বলতা আসে এবং ফ্রিজিনেস বা চুলের এলোমেলো ভাব কমে। অর্থাৎ চুল দেখতে আরও গোছানো ও প্রাণবন্ত লাগে।
হেয়ার স্পার আরেকটি সুবিধা হলো মাথা ও ঘাড়ে ম্যাসাজ। এতে শরীর ও মনে আরাম অনুভূত হতে পারে এবং সাময়িকভাবে মানসিক চাপও কমতে পারে।
কতদিন পরপর হেয়ার স্পা করবেন?
হেয়ার স্পার ফল স্থায়ী নয়। সাধারণত স্পা করার পর প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত চুলের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় থাকতে পারে। চুলের স্বাস্থ্য ভালো হলে এই প্রভাব প্রায় এক মাস পর্যন্তও থাকতে পারে।
তাই সাধারণভাবে মাসে একবার হেয়ার স্পা করাই যথেষ্ট। তবে চুল খুব বেশি শুষ্ক বা রুক্ষ হলে, খুশকির সমস্যা থাকলে কিংবা নিয়মিত চুলে রং করলে ১৫ থেকে ২১ দিন পরপর স্পা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে চুল পড়ার সমস্যা বেশি হলে শুধু হেয়ার স্পার ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
Comments