তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ‘রিভার্স ভ্যাকেশন’, নেপথ্যে যে কারণ
ছুটি মানেই আরাম, বিলাসিতা আর নানা সুযোগ-সুবিধা এমন ধারণা এখন বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ ছুটিতে গিয়ে আরাম করার বদলে খুঁজছেন নতুন অভিজ্ঞতা ও অ্যাডভেঞ্চার। এই নতুন ধরনের ভ্রমণকেই বলা হচ্ছে 'রিভার্স ভ্যাকেশন'।
সহজভাবে বললে, নিজের পরিচিত আরামদায়ক জীবন থেকে কিছুদিনের জন্য বেরিয়ে গিয়ে কষ্টকর বা চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সময় কাটানোই 'রিভার্স ভ্যাকেশন'। এখানে ফাইভ স্টার হোটেল, সুইমিংপুল বা স্পা-এর চেয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কীভাবে কাটে 'রিভার্স ভ্যাকেশন'?
পাহাড়ে ট্রেকিং করে তাঁবুতে রাত কাটানো, দুর্গম কোনো গ্রামে সাধারণ হোমস্টেতে থাকা কিংবা জঙ্গল ও নদীর কাছাকাছি এমন জায়গায় কয়েক দিন কাটানো—যেখানে বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেটের সুবিধাও নেই—এসবই হতে পারে 'রিভার্স ভ্যাকেশনের' অংশ।
কেউ কেউ শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে পাহাড়, জঙ্গল কিংবা প্রত্যন্ত এলাকায় সময় কাটান। সেখানে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির ব্যবহারও কমিয়ে দেন। ফলে দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে কিছুটা দূরে থাকার সুযোগ তৈরি হয়।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
কোভিড-পরবর্তী সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ সময় ঘরে থাকা, কাজের চাপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবন অনেকের মধ্যে মানসিক ক্লান্তি তৈরি করেছে। তাই ছুটিতে গিয়ে শুধু বিলাসিতা উপভোগ না করে অনেকেই ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা নিতে চাইছেন।
'রিভার্স ভ্যাকেশন' সেই সুযোগই তৈরি করছে। কিছুটা কষ্ট, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এবং নিজের সীমার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার মাধ্যমে অনেকেই জীবনকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
অর্থাৎ, এই ভ্রমণের মূল লক্ষ্য আরাম নয়; বরং পরিচিত জীবন থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা।
Comments