প্রথম মাসে বিনা খরচে স্টারলিংক সেবা, চালু করবেন যেভাবে
মোবাইল টাওয়ারের প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল প্রযুক্তি। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংক প্রযুক্তিনির্ভর এ সেবা চালু হলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা কিংবা সমুদ্রে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ঘোষিত অফার অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের আওতায় প্রথম মাসে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে ফোনের সক্ষমতা, নম্বরের যোগ্যতা ও সেবার আওতা সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কীভাবে চালু করবেন স্যাটেলাইট সেবা?
এ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সাধারণত আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ বা বাহ্যিক অ্যান্টেনা প্রয়োজন হয় না। তবে যেকোনো ফোরজি ফোনে সুবিধাটি পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনটি সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
নিজের নম্বরে এ সুবিধা চালু আছে কি না, তা জানতে বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপ দেখতে পারেন। প্রয়োজন হলে গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে সেবার যোগ্যতা, প্যাকেজ ও সক্রিয় করার নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক সেটিংস ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার।
আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে?
স্যাটেলাইট সংযোগের জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করে জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে বিষয়টি ফোনের মডেল, অপারেটরের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং সেবার শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
তাই শুধু ফোরজি সুবিধা থাকলেই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কখন স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হবে ফোন?
প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সহায়ক হতে পারে। উঁচু ভবন, পাহাড় কিংবা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সংযোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
তবে মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহারকারীর অবস্থান, ফোনের সামঞ্জস্য, স্যাটেলাইট কাভারেজ ও অপারেটরের শর্তের ওপর সংযোগ নির্ভর করবে।
প্রথম মাস ফ্রি, পরের মাসে কী হবে?
প্রকাশিত অফারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী মাসগুলোতেও নির্দিষ্ট কিছু প্যাকের আওতায় সুবিধাটি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন কোন প্যাক এই সুবিধার আওতাভুক্ত, বিনা মূল্যের এসএমএস ব্যবহারের শর্ত কী এবং প্রথম মাস গণনা শুরু হবে কখন—এসব বিষয়ে অপারেটরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।
স্যাটেলাইট সংযোগে কী কী সুবিধা মিলবে?
প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে সীমিত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এ প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। দুর্গম এলাকা, উপকূল কিংবা সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলে এটি কাজে আসতে পারে। দুর্যোগের সময় প্রচলিত নেটওয়ার্কে সমস্যা দেখা দিলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ সহায়ক হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেবাটি চালু থাকে।
প্রযুক্তি ও সেবার ধরন অনুযায়ী বার্তা পাঠানো, অবস্থানসংক্রান্ত সুবিধা এবং কিছু নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। তবে সব অ্যাপ বা অনলাইন সেবা কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রচলিত ফোরজি বা ফাইভজি নেটওয়ার্কের মতো ইন্টারনেটের গতি ও কার্যকারিতাও আশা করা উচিত নয়।
ডিশ বা অ্যান্টেনা বসানোর প্রয়োজন নেই
প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং সরাসরি মোবাইল ফোনের সঙ্গে স্যাটেলাইটের সংযোগ এক প্রযুক্তি নয়। স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের প্রচলিত কিছু ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট স্থানে ডিশ বা অ্যান্টেনা বসাতে হয়। অন্যদিকে, সরাসরি মোবাইল-স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
এ কারণে আলাদা ডিশ স্থাপন ছাড়াই সেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ফোনের উপযোগিতা ও অপারেটরের নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা আবশ্যক।
অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা কি পাবেন?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সুবিধাটি বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত। অন্য মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকেরা একই সুবিধা পাবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।
অর্থাৎ, শুধু উপযুক্ত ফোরজি ফোন থাকাই যথেষ্ট নয়। সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস, যোগ্য সিম ও নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাভারেজ থাকতে হবে।
সংযোগ না পেলে কী করবেন?
ফোনে ফোরজি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও স্যাটেলাইট সংযোগ না পেলে প্রথমে সফটওয়্যার হালনাগাদ ও নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করুন। এরপর মাইবিএল অ্যাপে নিজের নম্বরের জন্য সেবাটি পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা দেখুন।
এরপরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে ফোনের সামঞ্জস্য, নম্বরের যোগ্যতা, কাভারেজ এবং প্যাকেজের শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে অফারের মেয়াদ, প্রযোজ্য প্যাকেজ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অপারেটরের আনুষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করেই সেবা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
Comments