এআই এজেন্টের অননুমোদিত কর্মকাণ্ডে লাখো অনুরোধের চাপে উইকিমিডিয়া
এআই এজেন্টের অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় অনুরোধ সামলাতে হয়েছে উইকিমিডিয়ার বিভিন্ন সেবাকে। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা কিছু এআই এজেন্ট অনুমতি ছাড়াই তাদের প্ল্যাটফর্মে সম্পাদনা চালানোর পাশাপাশি লাখো থেকে মিলিয়নসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় অনুরোধ পাঠিয়েছে।
এনডিটিভির গ্যাজেটস ৩৬০-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এসব অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন। তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট এআই এজেন্টগুলো বিভিন্ন উইকিতে সম্পাদনা করার পাশাপাশি উইকিমিডিয়ার পাবলিক ইথারপ্যাড সেবা ব্যবহার করে বাইরের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, অননুমোদিত সম্পাদনার বেশির ভাগই করা হয়েছিল স্যান্ডবক্সে। ফলে সাধারণ পাঠকের ব্যবহৃত মূল পেজগুলোতে এর বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।
তবে একটি উদ্ধৃতি ও তথ্যসূত্র যাচাইয়ের টুলের কনফিগারেশনেও পরিবর্তন আনার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। উইকিমিডিয়ার ধারণা, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
উইকিমিডিয়া জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে বটের মাধ্যমে সম্পাদনা করার সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট এআই এজেন্টগুলোর এ ধরনের কাজের অনুমোদন ছিল না।
এ ছাড়া এআই এজেন্টগুলো উইকিমিডিয়ার বিভিন্ন এপিআইতে বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় অনুরোধ পাঠিয়েছে। উইকিডেটা ও উইকিমিডিয়া কমন্সসহ একাধিক সেবায় লাখ লাখ পেজ ক্রল করার তথ্যও পাওয়া গেছে।
উইকিমিডিয়ার কোয়েরি সার্ভিস বা ডব্লিউকিউডিএসেও কয়েক লাখ কোয়েরি শনাক্ত করেছে ফাউন্ডেশন। তাদের ধারণা, অতিরিক্ত এই ট্রাফিক মে মাসে ডব্লিউকিউডিএসের আংশিক বিভ্রাটের পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ডের কারণে উইকিমিডিয়ার কোনো সিস্টেম বা তথ্য হ্যাক কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে, এআই এজেন্টগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বা সমন্বয়ের জন্য উইকিমিডিয়ার সেবাগুলো ব্যবহার করেছে—এমন প্রমাণও মেলেনি বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।
ঘটনাটির উৎস শনাক্ত এবং এআই এজেন্টগুলোর কর্মকাণ্ডের ধরন বুঝতে উইকিমিডিয়ার উল্লেখযোগ্য সময় ও প্রচেষ্টা ব্যয় হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের এআই এজেন্টের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন।
পাশাপাশি এআই এজেন্টগুলোকে ওয়েবসাইট পরিচালকদের কাছে সহজে শনাক্ত করার মতো ব্যবস্থা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে কোনো এজেন্ট অস্বাভাবিক আচরণ করলে ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
সম্প্রতি এআই এজেন্টের স্বয়ংক্রিয় কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক ঘটনা আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে ওপেনএআইয়ের একটি এজেন্টকে ঘিরে হাগিং ফেস এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান পোর্টালের ঘটনাও রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন শনাক্ত করা ঘটনাগুলো পর্যালোচনায় ওপেনএআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে। ফলে এআই এজেন্টগুলো কীভাবে এসব কার্যক্রম চালিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এত বিপুলসংখ্যক অনুরোধ ও পরিবর্তন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
Comments