স্বাস্থ্যসেবার ১৫ খাতে ডিজিটাল সমাধান খুঁজবে ই-হেলথ হ্যাকাথন
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ, আধুনিক ও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইন্টারস্পিড অ্যাক্টিভেশন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন 'ই-হেলথ হ্যাকাথন ২০২৬'। স্বাস্থ্যসেবার ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর বাস্তবসম্মত প্রযুক্তিগত সমাধান বের করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
রোববার দুপুরে (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ এর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত বলেন,হ্যাকাথনে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যমান সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজবেন অংশগ্রহণকারীরা। রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, প্রেসক্রিপশনের সত্যতা যাচাই এবং এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরের সময় চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য হারিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীর তথ্য সংরক্ষণ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবেন উদ্ভাবকেরা।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রস্তাব মূল্যায়ন করবেন সরকারি, বেসরকারি ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ১০ সদস্যের একটি কমিটি। মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত দলগুলো ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় তিন দিনের জাতীয় বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
আয়োজকদের জানান , বুটক্যাম্পের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশ নেবে ৫০টি দল। সেখান থেকে ২৫টি দল বাছাই করা হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্বাচিত হবে সেরা পাঁচটি দল। প্রতিটি ধাপে উদ্ভাবনী ধারণার কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় এর সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করা হবে।
হ্যাকাথন থেকে নির্বাচিত কিছু প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমাধান বা ন্যূনতম কার্যকর পণ্য (এমভিপি) ভবিষ্যতে জাতীয় ই-হেলথ ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য বিবেচনা করতে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সেরা উদ্ভাবনী ধারণাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন ইন্টারস্পিড অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের গ্রুপ ডিরেক্টর আদনান করিম এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানাল মিজানুর রহমান।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালয় আহমাদজাই এবং বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ অপারেশনস কর্মকর্তা ইফফাত মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ই-হেলথ হ্যাকাথন এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি, পরীক্ষা ও বাস্তবায়নযোগ্য সমাধানে রূপ দেওয়াই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ করার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
Comments