লাশ যখন কবরের নিস্তব্ধতা ভেঙে কথা বলে: মোংলার মাহে আলম হত্যার রোমহর্ষক জট
ঘটনাটি কোনো অপরাধ জগতের রোমাঞ্চকর থ্রিলারকেও হার মানায়। একজন বয়স্ক মুসলিম ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা করে সুন্দরবনে ফেলে দেওয়া হলো। তিন দিন পর লাশ মিলল ঠিকই, কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা আর বনদস্যুদের এক অদ্ভুত 'ছক'-এ ৬৫ বছরের মাহে আলম রাতারাতি হয়ে গেলেন ২২ বছরের খ্রিষ্টান যুবক 'হিলটন নাথ'। ভুয়া সুরতহাল আর ময়নাতদন্তের জোরে এক মুসলিম ব্যক্তিকে সমাহিত করা হলো খ্রিষ্টান রীতিতে।
২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মোংলার মৎস্যজীবী দল নেতা মাহে আলমের নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু হওয়া এই রহস্যের জট আজও খোলেনি। আজ (শুক্রবার) মোংলা পোর্ট পৌরসভা চত্বরে এক মানববন্ধনে নিহতের স্বজন ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলেছেন— সব প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কি তবে প্রভাবশালীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে? কেন এখনো ধামাচাপা পড়ে আছে মাহে আলম হত্যাকাণ্ডের ফাইল?
নিহত মাহে আলমের ছেলে সুমন রানার অভিযোগ, তার বাবাকে অপহরণ ও হত্যার পর লাশ গুম করতে সুন্দরবনের করমজল এলাকা বেছে নেওয়া হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এক প্রভাবশালী নেতার সরাসরি মদতে বনদস্যু বিল্লাল সর্দার ও বেলায়েত সর্দার এই 'পরিচয় বদলের' নাটক সাজায়। দীর্ঘ সাত মাস আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, হিলটন নাথ হিসেবে দাফন করা ব্যক্তিটি আসলে মাহে আলম। এরপর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে পুনরায় দাফন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভের সাথে জানান, আদালতের নির্দেশে মামলা নিতে থানা বাধ্য হলেও তদন্তের ভার পাওয়া পিবিআই রহস্যজনকভাবে সময়ক্ষেপণ করছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, "তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব কি এখনো কাটেনি? কেন অভিযুক্ত বিল্লাল ও বেলায়েত সর্দার এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে?"
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিকসহ স্থানীয় নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই নজিরবিহীন জালিয়াতি ও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে মোংলার রাজপথ ছাড়বেন না তারা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— যেখানে ডিএনএ রিপোর্ট খুনের সত্যতা নিশ্চিত করেছে, সেখানে চার্জশিট দিতে পিবিআই-এর বাধা কোথায়?
Comments