“আমি জেল থেকে বলছি”— শান্তকে ঘিরে মোংলায় ক্ষোভ
মোংলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সজীব মিয়া শান্তকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে শান্ত লেখেন, "আমি জেলখানা থেকে বলছি; আমি গর্বিত, আমি ছাত্রদল কর্মী। মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আজ আমার এই কারাবরণ—যা পূর্বের যেকোনো কষ্টের চেয়ে হাজার গুণ বেশি বেদনাদায়ক।"
গত ১ এপ্রিল তাকে নৌকায় করে জেলহাজতে নেওয়ার সময় হাত উঁচিয়ে বিদায় জানানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় মোংলা সরকারি কলেজ গেট এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা শান্তসহ গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান।
জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ভোরে বিষপান করা এক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনুপম মজুমদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শান্ত ও যুবদল কর্মী হাফিজুর রহমান মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাদী ডা. অনুপম মজুমদারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তার ওপর চড়াও হন এবং জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, হাসপাতালের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় শান্ত মামলার শিকার হয়েছেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলা আড়াল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহিন ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে মোংলা থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Comments