দোকানে সংকট, ব্যবসায়ীর ঘরে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মজুত
সিলেট নগরীর দোকানে দোকানে ঘুরেও মিলছে না এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। অথচ শিবগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় এ গ্যাসের সিলিন্ডারের বিশাল মজুত পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে হক ভিলা, পুষ্পায়ন–২০ নম্বর ভবনে অভিযান চালায় সংস্থাটি। এ সময় 'মাখন চুলা ঘর' নামের প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ মিয়া জানান, বাড়িটিতে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রয়েছে এমন তথ্য পেয়ে তারা সেখানে অভিযান চালান। এ সময় একটি ট্রাকে ১২ কেজির ১৩০টি এলপিজি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ট্রাকটি গত দুই দিন ধরে সেখানে অবস্থান করছিল। কোনো ধরনের লাইসেন্স বা গোডাউন ছাড়াই বসতবাড়িতে এভাবে সিলিন্ডার রাখা বিধিসম্মত নয়; এতে অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে।
মোহাম্মদ আরিফ মিয়া আরও জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই সিলিন্ডারগুলো প্রচলিত বাজার দরে বিক্রি করে এর তথ্য অধিদপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্টে ক্রেতা বা গ্রাহকের মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। বর্তমানে গ্যাস সংকট চলমান থাকায় এ ধরনের মজুত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে অধিক দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে গত তিনদিনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সিলেট নগরীতে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা থাকলেও খুচরা দোকানগুলোয় মিলছে না এ গ্যাসের সিলিন্ডার। ফলে দোকানে দোকানে ঘুরছেন গ্রাহকেরা। আবার কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সরকার কর ও ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ এবং ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পরও খুচরা বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
Comments