প্রবাসে নিঃসঙ্গ মৃত্যু আব্দুল জলিলের, মৃতদেহ শেষবারের মতো দেশে ফেরানোর আকুতি পরিবারের
জীবিকার তাগিদে প্রায় দেড় বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আব্দুল জলিল (৫৪)। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমানো সেই প্রবাসী আর ফিরলেন না আপনজনের কাছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে রাজধানী মালেতে ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আব্দুল জলিলের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুতি জানিয়েছেন স্বজনরা।
রুমমেটদের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাসায় ফিরে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন আব্দুল জলিল। দীর্ঘ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে রুমমেটরা কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে (আইজিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
আব্দুল জলিলের নিকটাত্মীয় আব্দুর রহিম জানান, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে জীবিকার সন্ধানে মালদ্বীপে আসেন জলিল। দেশটিতে আসার পর প্রথম তিন মাস বৈধভাবে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে তার বৈধ কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য মালদ্বীপে কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি।
মৃত আব্দুল জলিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে এবং নিজ মাটিতে দাফন করতে এখন পরিবারের একমাত্র আকুতি যেন তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে, আব্দুল জলিলের মৃত্যুর বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশন অবগত রয়েছে বলে হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মৃতদেহ দেশে পাঠাতে হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজনরা।
Comments