দেশের খাদ্য সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে: হাইকমিশনার ডঃ মোঃ নাজমুল ইসলাম
বিদেশের মাটিতে দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে খাদ্যের মাধ্যমে তুলে ধরতে মালদ্বীপে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে "Subcontinental Kitchen"। স্বাদ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এক অনন্য মেলবন্ধন নিয়ে এই রেস্টুরেন্ট ইতোমধ্যেই প্রবাসী ও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালদ্বীপে চালু হওয়া এই নতুন রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে স্বকীয়তা বজায় রেখে। ধীরে রান্না করা বিরিয়ানি, স্তরবিন্যাসে সাজানো পোলাও, নিরামিষসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পদ এখানে দক্ষ রন্ধনশিল্পীদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বিভাজনের পূর্বে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক ঐক্য ও মেলবন্ধনকে তুলে ধরা। প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ মেওাকির ভাষায়, 'সীমান্তহীন রন্ধনশৈলী'ই এই রেস্টুরেন্টের মূল দর্শন—কারণ খাবার মানুষের সংস্কৃতি, স্মৃতি ও সম্পর্ককে একসূত্রে গেঁথে রাখে।
Mianz Investment-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই রেস্টুরেন্টটি শুধু খাবারের জায়গা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগের অনুপ্রাণিত পরিবেশ, সুরেলা সংগীত ও আন্তরিক আতিথেয়তা অতিথিদের জন্য ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।
রেস্টুরেন্টটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, খাদ্য সংস্কৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে এই ধরনের উদ্যোগ।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতিটি পদ প্রস্তুতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয় এবং প্রতিটি মসলা ব্যবহৃত হয় নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে—যাতে অতিথিরা শুধু খাবার নয়, বরং একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যান।
সব মিলিয়ে "Subcontinental Kitchen" মালদ্বীপে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্বাদকে নতুনভাবে পরিচিত করে তুলছে, যা একদিকে নস্টালজিয়া জাগায়, অন্যদিকে গড়ে তোলে সংস্কৃতির এক নতুন সেতুবন্ধন।
Comments