ইতালি প্রবাসী জাকিরের জানাজা সম্পন্ন
প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবন ফেলে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কেরানীগঞ্জের কৃতি সন্তান ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা জাকির হোসেন (৪০)। গত রবিবার (১৫মার্চ) ইতালির রাজধানী রোমে কর্মস্থলে থাকাকালীন আকস্মিক মৃত্যু হয় তার। সোমবার রোমের মারকনি ব্রিজ সংলগ্ন একটি খেলার মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানাজার নামাজে রোমে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। এসময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যে তৈরী হয়। প্রায় ১০ বছর ধরে ইতালিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের হাল ধরেছিলেন জাকির। তার অকাল মৃত্যুতে ইতালির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় উপস্থিত সহকর্মীরা তাকে একজন অত্যন্ত অমায়িক ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।
কেরানীগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, জাকির ছিলেন আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো। তার মৃত্যুতে আমরা একনিষ্ঠ একজন সদস্যকে হারালাম। আমরা চেষ্টা করেছি দ্রুততম সময়ে তাকে তার পরিবারের কাছে পাঠাতে, যাতে অন্তত শেষবারের মতো তারা মুখটা দেখতে পারেন।
মরহুমের মরদেহ মঙ্গলবার বিশেষ বিমানে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে পরদিন বুধবার সকালে মরদেহ ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি তার নিজ গ্রাম কেরানীগঞ্জের তারানগর কলমারচর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কেরানীগঞ্জ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি। এই মানবিক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম এবং ইতালির যুব ক্রীড়া সভাপতি মাসুদ রানা। এছাড়াও মরহুমের বন্ধু-বান্ধব ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী দিনরাত পরিশ্রম করেছেন সকল দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে।
মরহুম জাকির কেরানীগঞ্জের তারানগর কলমারচর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শফি উদ্দিনের সন্তান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান এবং এক পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় এক দশক আগে তিনি ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
Comments