ইতালিতে বিমাসের ইফতার মাহফিলে ইতালীয় রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের মিলনমেলা
ইতালির রাজধানী রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ এমিগ্রান্টস এসোসিয়েশন (বিমাস)-এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিমাসের সভাপতি ডক্টর মুক্তার হোসেন মার্ক-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইতালির মূলধারার শীর্ষ রাজনীতিক, বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, "বিমাসের এই আয়োজন কেবল একটি ইফতার মাহফিল নয়, এটি ইতালীয় সমাজের সাথে আমাদের সেতুবন্ধন। প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে দূতাবাস সব সময় আপনাদের পাশে আছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক, ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য নিকোলা জিঙ্গারেত্তি, ইতালীর সিনেটর চেচিলিয়া দেলিয়া, ইতালির সংসদ সদস্য পাওলো চানি, লাঝিও রিজিওনাল বিধানসভার চিফ হুইপ মারিও চারলা, এমএলএ ও ডেমোক্রেটিক পার্টির (PD) যুগ্ম মহাসচিব মার্তা বনাফনী, ৫ নম্বর মুনিচিপিও-র প্রেসিডেন্ট মাউরো কালিস্তে, ১৫ নম্বর মুনিচিপিও-র প্রেসিডেন্ট দানিয়েলে তরকুয়াতি, ডেমোক্রেটিক পার্টি রোম শাখার মহাসচিব এনঝো ফস্কি, রোম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর এরিকা বাত্তালিয়া এবং বিশেষ দূত এমিলিয়ানো মন্তেভেরদে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য সংস্থা (FAO)-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার এবং গ্লোবাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নাফিস আহমেদ খান।
ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য নিকোলা জিঙ্গারেত্তি ইফতার কেবল উপবাস ভাঙার অনুষ্ঠান নয়, এটি শান্তি, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য উদাহরণ। মুসলিম উম্মাহর এই পবিত্র রমজান মাস আমাদের শেখায় কীভাবে ত্যাগের মাধ্যমে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হয়। ইতালীয় সমাজে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটি তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা ইউরোপীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডক্টর মুক্তার হোসেন মার্ক বলেন, বিমাস কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি ইতালিতে প্রবাসীদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। ইতালীয় রাজনীতিকদের এই বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় মূলধারায় আমাদের গুরুত্ব বাড়ছে। রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক তার বক্তব্যে প্রবাসীদের একতাবদ্ধ হয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।
ইফতারের আগে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর দেশি-বিদেশি অতিথিরা একসাথে ইফতার গ্রহণ করেন। বক্তারা বিমাসের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
Comments