বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রকে দীর্ঘ এক মাস টানা যৌন নির্যাতন (বলাৎকার) ও মারধরের অভিযোগে রাকিবুল হাসান মিরাজ (১৯) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩শে আগস্ট) বিকেল আড়াইটার দিকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে সিন্দুরখান রোডস্থ জামিয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রাকিবুল হাসান মিরাজ শ্রীমঙ্গল আশিদ্রোন ইউনিয়নের সুনগইড় গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় এক মাস ধরে ওই শিশু ছাত্রের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিনের এই অমানবিক নির্যাতনের ফলে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ রোববার সকালে শিশুটি ওই শিক্ষকের অনৈতিক কোনো নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হয়। এতে শিশুটির শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে শিশুটির অভিভাবক দ্রুত শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই মুহিবুর রহমান, এসআই হারুনুর রশিদ, এসআই বাবলা, এসআই আনিস ও এসআই পারভেজের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল দ্রুত মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে নির্যাতিত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী শিশুর শরীরে নির্যাতনের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-৩৩)। ঘটনার অধিকতর তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Comments