৬৮ বছর পর ১০ গোলের মহাকাব্য: ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে এতটা রোমাঞ্চকর ও উত্তেজনায় ঠাসা হতে পারে, তা হয়তো ফুটবলপ্রেমীদের কল্পনারও বাইরে ছিল। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল ১০ গোলের এক রুদ্ধশ্বাস মহাকাব্যে। গোলবন্যার এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে আসরের তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড।
এই ম্যাচটি কেবল ইংল্যান্ডের জয়গাথাই নয়, একই সাথে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল ইতিহাসের পাতায়। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ফুটবল বিশ্ব বিশ্বকাপে ১০ গোলের কোনো ম্যাচ প্রত্যক্ষ করল। এর আগে সর্বশেষ ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে (৭-৩) ১০টি গোল হয়েছিল। মায়ামির এই ম্যাচটি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের যৌথভাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডগুলো নিচে দেওয়া হলো:
-
১২ গোল (সর্বোচ্চ): ১৯৫৪ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ৭-৫ ব্যবধানে হারিয়েছিল সুইজারল্যান্ডকে।
-
১১ গোল: এই তালিকায় রয়েছে তিনটি ম্যাচ— ১৯৩৮ সালে ব্রাজিল ৬-৫ গোলে হারায় পোল্যান্ডকে, ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরি ৮-৩ গোলে হারায় পশ্চিম জার্মানিকে এবং ১৯৮২ সালে হাঙ্গেরি ১০-১ গোলে বিধ্বস্ত করে এল সালভাদরকে।
-
১০ গোল: ১৯৫৮ সালের ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে (৭-৩) ম্যাচের পর ২০২৬ সালের এই ইংল্যান্ড-ফ্রান্স (৬-৪) ম্যাচ।
এছাড়াও ১৯৩০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ ও ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে ৯ গোলের একাধিক ম্যাচ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল ফুটবল বিশ্বের।
টমাস টুখেলের অধীনে মাঠে নামা ইংল্যান্ড ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রথমার্ধেই বুকায়ো সাকার জোড়া গোল এবং ডেক্লান রাইস ও এজরি কনসার নৈপুণ্যে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি-লায়ন্সরা।
৪ গোলে পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, সাথে ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বেলের লক্ষ্যভেদে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফেরে ফরাসিলিপ্সু দল। তবে ফরাসিদের এই প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন বুকায়ো সাকা। তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পর অতিরিক্ত সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) জুড বেলিংহাম আরও একটি গোল করলে ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়।
সাধারণত বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকে আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলেও, মায়ামির এই লড়াই ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। দুই পরাশক্তির আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গোল উৎসবের এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দ্বৈরথ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Comments