হারের বেদনার মধ্যেও মেসি বন্দনায় হ্যারি কেন
মহাতারকাদের প্রকৃত মহত্ত্ব অনেক সময় প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও লিওনেল মেসির প্রতি সম্মান জানাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন। ম্যাচ শেষে অকপটে স্বীকার করেছেন এলএমএইটের শ্রেষ্ঠত্ব।
বুধবার রাতে এক রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। আর আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নেপথ্য কারিগর ছিলেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার জাদুকরী অ্যাসিস্ট থেকেই প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান এবং পরে লাউতারো মার্তিনেসের জয়সূচক গোলের পেছনেও ছিল অধিনায়কের বড় অবদান।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পরাজয়ের তীব্র হতাশা লুকাননি কেইন। তবে আক্ষেপের মাঝেও প্রতিপক্ষ অধিনায়কের প্রশংসা করে তিনি বলেন,'আমরা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের জাদুকরী পারফরম্যান্সের সাক্ষী হলাম।'
কেইনের মতে, মেসির বিশেষত্ব কেবল গোল কিংবা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা, সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করা, কঠিন মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চরম চাপের মধ্যেও অবিশ্বাস্য শান্ত থাকার ক্ষমতাই তাকে অনন্য করে তুলেছে। প্রায় দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজত্ব করা মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
এই বিশ্বকাপে মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন, বড় মঞ্চই তার সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের হাল ধরা, আক্রমণ সাজানো এবং প্রয়োজনের সময় ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতায় তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। ৩৯ বছর বয়সেও তার ফুটবল মেধা, দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্ব যেন সময়কে হার মানাচ্ছে।
Comments