নেটফ্লিক্সে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ এর জয়জয়কার
নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া রোমান্টিক কমেডি সিনেমা 'পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন' এখন স্ট্রিমিং চার্টে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছে; আজ রয়েছে নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের দুইয়ে। ২০২১ সালে প্রকাশিত জনপ্রিয় লেখিকা এমিলি হেনরির বহুল আলোচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমিলি ব্যাডার ও টম ব্লাইথ। তাঁরা পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পপি ও অ্যালেক্সকে—দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে একসঙ্গে দুজন বের হয় এক ভ্রমণে, যা রূপ নেয় প্রেমে। ৯ জানুয়ারি মুক্তির পরপরই নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় ১ নম্বরে উঠে আসে 'পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন'। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে এখনো এটি রয়েছে ২ নম্বরে। এমিলি হেনরির বইয়ের ভক্ত হোক বা প্রথমবার এই গল্পের সঙ্গে পরিচিত দর্শক—সবাই যেন এই সিনেমার প্রেমে পড়ে যাচ্ছেন।
শুরুতে পপির খামখেয়ালি স্বভাব কিছুটা বিরক্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু গল্প এগোতে থাকলে দর্শক যেমন তাকে বোঝে, তেমনি অ্যালেক্সও বুঝতে শেখে, সে এমন কেন। ধীরে ধীরে দর্শক তার বড়সড় ব্যক্তিত্বকে আপন করে নেয় এবং ভাবতে বাধ্য হয়, কেন কখনো তাকে 'অতিরিক্ত' মনে হয়েছিল। অন্যদিকে অ্যালেক্স চাইলে একঘেয়ে, সাদামাটা চরিত্র হয়েই থাকতে পারত। কিন্তু তার আবেগঘন স্বচ্ছতা দেখায়, সে কতটা স্তরবহুল মানুষ। চরিত্র দুটির এই গভীরতা সিনেমাটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এই দুই চরিত্র যত ভালোভাবেই লেখা হোক না কেন, প্রধান দুই অভিনেতার মধ্যে রসায়ন না থাকলে সিনেমাটি কাজ করত না। সৌভাগ্যক্রমে এমিলি ব্যাডার ও টম ব্লাইথের মধ্যে রসায়ন চোখে পড়ার মতো। প্রথম অস্বস্তিকর সাক্ষাৎ থেকে শুরু করে হৃদয়ছোঁয়া শেষ পর্যন্ত—একমুহূর্তের জন্যও তাঁদের দিক থেকে চোখ ফেরানো যায় না।
সব মিলিয়ে 'পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন' যেন ক্ল্যাসিক রোমান্টিক কমেডির প্রতি একধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। সিনেমাটি ভ্রমণকেন্দ্রিক হওয়ায় এতে রয়েছে চোখজুড়ানো সুন্দর সব লোকেশন। কঠিন সময় আর প্রতিকূল আবহের মধ্যে এই সিনেমা যেন একধরনের স্বস্তির পরশ।
Comments