বান্দরবানে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ ইটভাটা

যতবার প্রশাসন অভিযান চালাবে ততবারই ইটভাটাগুলোতে আগুনের ধোঁয়া বের হবে। প্রশাসন অভিযানে যে জরিমানা দেয়া হয়েছে সেগুলো টাকা তুলতে হবে' লস ত হতে দিব না। এমন ভাষ্য এখন অবৈধ ইটভাটা মালিকদের মুখে মুখে। প্রশাসন একাধিকবার অভিযান দেয়ার পরও এখনো থামছে না অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম। বান্দরবানে লামায়, আলীকদম,নাইক্ষ্যংছড়িসহ চার উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা চালানোর হিড়িক মেতেছে ইটভাটা মালিকপক্ষ। ফলে আশেপাশে থাকা উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চলে গাছ-গাছালি ও হুমকিতে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন তথ্য মতে, বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় যতগুলো অবৈধ ইটভাটা রয়েছে সেসব ইটভাটা পরিচালনা বন্ধে নোটিশ দিয়েছে হাইকোর্ট। যেগুলো চলমান রয়েছে সেসব অবৈধ ইটভাটায় যৌথ অভিযানের পরিচালনা করা হচ্ছে। এই নিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মতন জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। তবুও থামানো যাচ্ছে না এসব অবৈধ ইটভাটা মালিকদের। তবে অন্তর্বর্তীনকালী সরকার থেকে ভূমি নতুন আইনসহ পার্বত্য এলাকায় ইটভাটা গুড়িয়ে নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, বান্দরবানের ৭০টি অবৈধ ইটভাটা মধ্যে প্রায় ২৫ টির মতন চালু রয়েছে। ফাইতং ইউনিয়নের ১৪টি, গজালিয়া ১টি, ফাঁসিয়াখালীতে ১টি, ছাগল খাইয়া ১টি, আলীকদমে ২টি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ৬টি। বান্দরবানের সাতটি উপজেলার মধ্যে লামা উপজেলায় বেশীর ভাগই ইটভাটা কার্যক্রম চলে ফাইতং ইউনিয়নে। সেখানে প্রায় ১৪টি মতন অবৈধ ইটভাটা চলমান রয়েছে। একই চিত্র আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাতে। এই দুই উপজেলায় মিলে ৮টি মতন ইটভাটা চলমান রয়েছে। এসব ইটভাটায় প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার অভিযান চালানোর পরপরই আবারো ধোঁয়া বের হয় মাথা গজিয়ে উঠা অবৈধ ইটভাটা চুল্লি থেকে। শুরু হয় ইট তৈরী, গাছ কাটা মহোৎসব ও পাহাড় কাটা ধ্বসযজ্ঞ। এভাবে জরিমানা না করে পুরো ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার দাবী সচেতন মহলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লামা উপজেলায় প্রবেশের মুখে স্বপন নামে ইটভাটায় চলছে ইট পোড়ানো ও তৈরীর কাজ। প্রায় সেখানে এক রাউন্ড ( এক লাখের বেশী) ইট বের করা হয়েছে। লামা ফাইতং ইউনিয়নের পুরোদমে চলছে ইট পোড়ানোর কাজ। প্রতিটি ইটভাটার চুল্লির থেকে বের হচ্ছে শুধু ধোঁয়া। পাহাড় কোল ঘেষে রাখা হয়েছে অসংখ্য গাছের লাকড়ি ডিপো ও চলছে মাটির কাটার কাজ। তাছাড়া ওই এলাকার পুরো নাজেহাল অবস্থা ফাইতং- বানিছড়া সড়ক। বালু ধুলোতেই প্রতিটি এলাকায় শুধুই ধবদবে সাদা।
অনুসন্ধান বলছে, লামায় ফাইতং ইউনিয়নের প্রতিটি অবৈধ ইটভাটায় বনাঞ্চল উজার করে গাছ সরবরাহ দিচ্ছে মুক্তার মেম্বার নামে ইটভাটার মালিক। অপরদিকে অর্থ পাঠানোসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে সামাল দিচ্ছে মুজিব, মহিউদ্দিন, মুক্তার সহ আরো বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। তাছাড়া প্রতিটি ইটভাটায় প্রশাসন ও হাইকোর্ট থেকে রিট নিয়ে ইটভাটা চালু করেছেন বলে দাবি করে যাচ্ছেন ঝিকঝাক ইটভাটা মালিক। আর এসব বিষয়েও অনান্য ইটভাটা মালিকরাও দায়িত্ব চাপিয়ে দেন একের পর এক ইটভাটা মালিকদের উপর।
এবিষয়ের ঝিকঝাক ইটভাটা মালিক মোহাম্মদ কবির হোসেন দাবি করে বলেন, আমরা হাইকোর্ট থেকে রিট এনে ইটভাটা চালাচ্ছি। অবৈধভাবে চালাচ্ছি না। প্রতিটি ইটভাটাগুলো রিট নেয়া। হাইকোর্ট থেকে রিটের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কেন দেখাবো? আমার যাকে দেখানো ইচ্ছে তাকেই দেখাবো।
ইটভাটা মালিক সমিতি সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তার মেম্বার বলেন, এখন আমার কোন দায়িত্ব নাই। সব দায়িত্ব মহিউদ্দিন, মজিব,কবির তারাই নিয়েছে। তারা এবিষয়ে লেনদেন করছে।
অভিযানের পর আবারো ইটভাটা চালু কেন এমন প্রশ্ন করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, অভিযানে পর ইটভাটা মালিকরা আবার চালূ করলে আমাদের আর কি করার আছে! তবে অবৈধ ইটভাটা গুলোতে যৌথভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জরিমানাও করা হচ্ছে। এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক শামিম আরা রিনি জানিয়েছেন, প্রতিটি ইটভাটায় উপজেলার প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে আবারো ইটভাটা চালু করছে ইটভাটা মালিকপক্ষরা। আর প্রতিটি ইটভাটায় দুর্গম হওয়াতেই তেমন যাওয়ার সম্ভব না। তাছাড়া জরিমানা করার দায়িত্ব প্রশাসনের আর গুড়িয়ে দেয়া দায়িত্ব পরিবেশের। আর চেষ্টা করছি সেনাবাহিনী মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করার।
শামিম আরা রিনি আরো জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার্থে একটি নতুন ভূমি আইন তৈরী হয়েছে সেই আইনের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটা মালিকদের মামলা আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া। আর মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
Comments