মক্কা-মদিনায় আজ জুমা পড়াবেন দুই খ্যাতিমান ইমাম
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬), ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা ও মদিনায় জুমার নামাজের ইমামতি করবেন ইসলামী বিশ্বের সুপরিচিত দুই আলেম। মক্কার মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ পড়াবেন শায়খ ড. আবদুল্লাহ আল-জুহানি। আর মদিনার মসজিদে নববিতে ইমামতি করবেন শায়খ ড. আলী আল-হুজাইফি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও দুই পবিত্র মসজিদের জুমার খুতবা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আরবি ভাষার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় খুতবার অনুবাদ শোনার সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, ফার্সি, মালাই, উর্দু, চীনা, ফরাসি, হাউসা, তুর্কি ও রুশ ভাষা।
শায়খ ড. আবদুল্লাহ আল-জুহানি
শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানি মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৩৯৬ হিজরি বা ১৯৭৬ সালে মদিনা মুনাওয়ারায় তাঁর জন্ম। ছোটবেলাতেই তিনি মদিনার মসজিদুল আশরাফে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মক্কায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।
মদিনার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির কোরআন অনুষদ থেকে স্নাতক শেষ করার পর উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি, মক্কায় শিক্ষকতা করেন। সেখানে কোরআনের তাফসির বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
মদিনার বিভিন্ন মসজিদে ইমামতির মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। পরবর্তীতে মসজিদে কিবলাতাইন, মসজিদে কুবা ও মসজিদে নববিতেও ইমামতি করেছেন। ২০০৫ সালে মসজিদুল হারামে রমজানের তারাবির নামাজে ইমামতির দায়িত্ব পান। এরপর তিনি মসজিদুল হারামের নিয়মিত ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সুমধুর ও হৃদয়গ্রাহী কোরআন তিলাওয়াতের কারণে মুসলিম বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে তিনি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। কোরআন, তাফসির ও কিরাআত বিষয়ে তাঁর জ্ঞান এবং দীর্ঘদিনের ইমামতির অভিজ্ঞতা তাঁকে খ্যাতিমান কোরআন কারিদের একজন হিসেবে পরিচিত করেছে।
শায়খ ড. আলী আল-হুজাইফি
শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি মসজিদে নববীর অন্যতম সুপরিচিত ইমাম ও খতিব। কোরআন তিলাওয়াতের জন্যও মুসলিম বিশ্বে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ১৩৬৬ হিজরি বা ১৯৪৭ সালে মক্কা অঞ্চলের আল-আরদিয়াত এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা সেনাবাহিনীতে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শৈশব থেকেই কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করেন। প্রাথমিক ও স্থানীয় শিক্ষার পর বালজুরাশি অঞ্চলের একটি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পরে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির শরিয়াহ অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে ১৯৭৫ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং ফিকহ ও ইসলামি রাজনীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষকতা জীবনে ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন আল-হুজাইফি। তাওহিদ, ফিকহ, মাজহাব ও কিরাআতসহ ইসলামি জ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পাঠদান করেন। পাশাপাশি মসজিদে কুবা ও মসজিদুল হারামেও ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭৯ সালে তাঁকে মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে স্বল্প সময়ের জন্য মসজিদুল হারামে ইমামতি করার পর ১৯৮২ সালে আবার মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে দায়িত্ব ফিরে পান।
গভীর, ধীর ও আবেগঘন কোরআন তিলাওয়াতের জন্য শায়খ আল-হুজাইফি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাঁর সম্পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াতের রেকর্ডও সংরক্ষিত ও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। মদিনার মুসহাফ পর্যালোচনার পাশাপাশি কিং ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সের কোরআন রেকর্ডিংসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্বেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
Comments