'পার্কিং বদলে গুদাম, নেই ড্রপিং বে' শুধরে যেতে এক মাসের আলটিমেটাম সিডিএ চেয়ারম্যানের
চট্টগ্রাম নগরীর তীব্র যানজট নিরসন এবং ভবন নির্মাণে নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পার্কিং সংকট, এবং অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের বাস্তব চিত্র দেখতে সরেজমিনে সিডিএ চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনে উঠে আসে একের পর এক অনিয়মের চিত্র আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে চালানো হচ্ছে হাসপাতাল ও স্কুল, আর গাড়ি রাখার নির্ধারিত পার্কিং স্থান রূপ নিয়েছে সিলিন্ডার ও মালামালের গুদামে।
সিডিএ চেয়ারম্যানের পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মের চিত্র হলো, 'পার্কভিউ হাসপাতালে' নকশা অনুযায়ী ২০ ফুট ড্রপিং বে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে প্রায় ১৫ ফুট, যা যানচলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। পার্কিং এলাকায় রোগীদের গাড়ি নামমাত্র; সেখানে রাখা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার ও অফিসের মালামাল। এসব মালামাল দ্রুত সরিয়ে পার্কিং সাইন, দিকনির্দেশনা ও টোকেন ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেয় চউক। এর পাশে 'ইবনে সিনা হাসপাতালে' আবাসিক প্লটে গড়ে তোলা এই ভবনটিতে হাসপাতাল পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমোদন পাওয়া যায়নি। চউকের নির্দেশ সত্ত্বেও পরিদর্শনের সময় কোনো অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেননি কর্মকর্তারা। নেই পার্কিং নির্দেশিকা নামকাওয়াস্তে ২-৩টি গাড়ি রাখার জায়গাতেও স্তুপ করে রাখা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা সামগ্রী। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনের 'ডেল্টা হাসপাতালের' চিত্র আরো ভয়াবহ আবাসিক ভবনের নকশায় ২০টি পার্কিং স্থান উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে গাড়ি রাখা যায় মাত্র ৩ থেকে ৪টি। নেই কোনো ড্রপিং বে-র ব্যবস্থা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গাড়ি দাড়াতে হয় রাস্তায় এর ফলে প্রবর্তক মোর থেকে যানজট শুরু হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলের প্রধান প্রবেশ পথে মানুষের ভোগান্তি চরমে। তার পাশের বিল্ডিং 'ডক্টরস হাসপাতাল' তাদের অবস্থা আরো তীব্র প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোনো পার্কিং সুবিধা কিংবা ড্রপিং বে। এমনকি বিধি অনুযায়ী ভবনের সেটব্যাকও রাখা হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদিত নকশা প্রদর্শনেও ব্যর্থ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
'চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল' চট্টেশ্বরী ক্যাম্পাসে ভয়াবহ অবস্থা আবাসিক ভবনে পরিচালিত এই ক্যাম্পাসের নকশায় ২৬টি গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ১টি পার্কিং স্থান। চট্টগ্রামের জামালখান এর জনপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'চট্টগ্রাম আইডিয়াল হাই স্কুল' আরো ভয়াবহ অবস্থা বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত এই স্কুলে পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে নিজস্ব মাইক্রোবাস। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে স্কুল বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। পরিদর্শন শেষে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন অনিয়ম শুধরে নিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে এক মাসের সময় বেঁধে দেন।
চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, "সব প্রতিষ্ঠানকে এক মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্কুল বাস চালু এবং সম্ভব হলে স্থায়ী ও উপযুক্ত ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে।"
তিনি আরও জানান, নগরীকে বাসযোগ্য রাখতে শিগগিরই হাসপাতাল মালিক, স্কুল কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে সমন্বিত বৈঠক আয়োজন করা হবে।
Comments