হামজার পরিশ্রম বৃথা করে দিয়েছেন জনিরা

বাংলাদেশ ভারত ফুটবল ম্যাচ নিয়ে অতটা আলোচনা আগে হয়নি। খেলা হয়ে গেছে ২৫ মার্চ। কিন্তু সেই ম্যাচের রেশ রয়েছে গেছে। এখনো আলোচনা আছেই। ফুটবলপ্রেমীরা এখনো ঘুরে ফিরে ম্যাচ নিয়ে কথা বলছেন। কোথায় গলদ ছিল তা নিয়ে কথা বলছেন। ভারতেও এই আলোচনা রয়েছে বলে ভারতীয় সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে। কেন ভারত ম্যাচটা জিততে পারল না; তা নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে।
ভারতের মতো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনেও প্রশ্ন, খেলার শুরুতে এত সুযোগ পেয়েও কেন বাংলাদেশ জিততে পারল না। কোথায় কোথায় গলদ ছিল তা নিয়েও সমালোচনা ছাড় দিচ্ছেন না ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে মুজিবুর রহমান জনির কারণে বাংলাদেশ প্রথম মিনিটেই প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কারো মতে শিলংয়ে এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে চারটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট হয়েছে। আবার কারও মতে ছয়টি সুযোগ নষ্ট করেছে। ম্যাচের যে পরিস্থিতি শেষ দিকে উলটো বাংলাদেশ হারের মুখ দেখেনি, ভাগ্য ভালো।
ভারতের মতো বড় ম্যাচে সুযোগ আসে কম। কিন্তু বাংলাদেশ যেসব সুযোগ পেয়েছিল তা সত্যি সত্যি ম্যাচ জেতার সুযোগ। মুঠোয় থাকা ম্যাচ ছিল। প্রায় ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ নষ্ট করেছেন জনির মতো ফুটবলাররা। ভারতীয় গোলরক্ষক ভিশাল কাইথ বক্সের বাইরে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পেছনে পোস্ট ছিল ফাঁকা। জনি ঐ অ্যাঙ্গেল থেকে গোল করার মতো দক্ষতা-অভিজ্ঞতা কোনোটাই নেই, অতীতেও প্রমাণ করতে পারেননি। তারপরও গোলের খাতায় নিজের নাম লিখতে গিয়ে গোল বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ বল বাইরে চলে যায়। এটা দেখে সেদিন শিলংয়ে জওহরলাল স্পোর্টস কমপ্লেকসের প্রেসবক্সের সামনের সারিতে বসা ভারতীয় সাংবাদিকরা নিচু স্বরে ফিসফিস করলেন 'ছেলেটি (জনি) বাঁচিয়ে দিয়েছে।'
মুজিবুর রহমান জনি অমার্জনীয় কাজ করেছেন। অথচ নিজে গোল পোস্টে না মেরে যদি ছোট বক্সে বল ফেলতেন তাহলে গোল না হলেও সেকেন্ড চান্স থাকত। জনিদের মতো ফুটবলারদের কারণে বারবার দেশ বঞ্চিত হয়। ইমন শাহরিয়ারও সুযোগ পেয়ে গোল করতে পারেননি। দেশের ক্লাব লিগে ইমন শাহরিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। কিন্তু জায়গা মতো গিয়ে ইমন শাহরিয়ারও সেই জনির মতোই, প্রবল সম্ভাবনার আলোর মধ্যে অন্ধকার নামিয়ে আনলেন।
একই পথে হাঁটলেন হৃদয়। তিনিও ভারতের জালে গোল করার মতো ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোল করতে পারেননি। বল পায়ে হৃদয়ের টাইমিং এত বাজে ছিল যে, বল কিছু একটা করার কথা ভাবতে ভাবতেই গোললাইনে দাঁড়িয়ে যান ভারতীয় ডিফেন্ডার। এভাবে বারবার বেঁচে যায় ভারত। বাংলাদেশের ফুটবলারদের এমন হতশ্রী অবস্থা দেখে ভারতের স্প্যানিশ কোচ বলেছিলেন গোল খাইনি, এটা ম্যাচের পজিটিভ দিক।'
হামজা চৌধুরীকে আনাই হয়েছিল বাংলাদেশ দলের শক্তি বাড়াতে। হামজার সঙ্গে খেলে অন্য ফুটবলাররা উজ্জীবিত হবেন এবং তারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন। ভারতের বিপক্ষে হামজা যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছেন তা সবার জানা। সেই সব ফুটেজ এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। ফুটবলপ্রেমীরা বারবার হামজার খেলার কৌশলগুলো মুগ্ধ চোখে দেখছেন। বাংলাদেশকে জেতানোর জন্য হামজা জীবন দিয়ে লড়াই করেছেন।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লেফট উইং দিয়ে উইংগার লিস্টন কোলাসো রহমত মিয়াকে মাটিতে ফেলে দিয়ে বল নিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে যাচ্ছিলেন। নিশ্চিত বিপদ মনে করে প্রায় মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে লিস্টন কেলাসোকে নিখুঁতভাবে ফেলে দিয়ে বলটা কেড়ে নিয়েছেন হামজা। এভাবে ভারতের অনেকগুলো আক্রমণ হামজা নিজ দক্ষতায় নষ্ট করে দিয়েছেন। অথচ দলের অন্যরা হামজার পরিশ্রমটাকে কাজে লাগাতে পারলেন না। গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না। হামজার স্বার্থকতা থাকত। হামজার পরিশ্রমটাকে জলে ডুবিয়েছেন জনির মতো ফুটবলাররা।
Comments