দায়হীনতার এক অনন্য জনপদ
সমুদ্রের নীল জলরাশি আর পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। কিন্তু সেই আনন্দের গন্তব্যই পরিণত হলো মৃত্যুফাঁদে।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তৈরি হয় আতঙ্ক। শেষ পর্যন্ত আগুন কেড়ে নেয় ১০টি প্রাণ।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা, মেলিতা মেহজাবিন আলভী, লায়লা জাহান নাবিলা, নাফিসতা মীম, ফারিয়া কবির, পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ, নাসরিন আক্তার মুক্তা, মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।
স্বজনদের কাছে এই মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু এই প্রাণহানি কি এড়ানো যেত না?
অগ্নিনিরাপত্তা সনদ না থাকা এবং রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এরপরও সেখানে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা কীভাবে চালু ছিল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ঝুঁকির তথ্য যদি আগে থেকেই জানা থাকে, তাহলে দুর্ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বড় কোনো দুর্ঘটনার পর শুরু হয় তদন্ত, চলে দায় নির্ধারণের আলোচনা। কিন্তু কিছুদিন পর এসব উদ্যোগ থেমে গেলে বদলায় না পরিস্থিতি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করা, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে নিরাপত্তাবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার দায় এড়াতে পারেন না মালিকপক্ষও।
দশটি প্রাণের বিনিময়ে আবারও সামনে এসেছে পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশ্ন। শুধু তদন্ত বা আশ্বাস নয়, এই ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।
Comments