দক্ষিণাঞ্চলে পতিত জমি ও শস্য নিবিড়তার সমীকরণঃ কৃষি গবেষণানির্ভর একটি তথ্যবহুল বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং উপকূলীয় বেল্ট, যেমন—বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় জেলাসমূহ (বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট)—ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রে এক বিশেষ বাস্তবতার মুখোমুখি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (SRDI) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানকার মাটি ও পানি বৈচিত্র্যময় হলেও প্রাকৃতিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার হেক্টর জমি কৃষি উৎপাদনের মূল ধারার বাইরে রয়ে গেছে।
পতিত বা অনাবাদী জমির প্রকৃত চিত্র ও কারণসমূহ-
দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত দুই ধরণের জমি অনাবাদী থাকে—স্থায়ী অনাবাদী এবং মৌসুমি বা সাময়িক অনাবাদী জমি।
মৌসুমভেদে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ হেক্টর জমি বছরজুড়ে কোনো না কোনো মৌসুমে পতিত থাকে। বিশেষ করে 'খরিফ-১' (গ্রীষ্মকাল) এবং 'রবি' (শীতকাল ও শুষ্ক মৌসুম) সময়ে অনাবাদী জমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। বরিশাল ও খুলনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে আমন ধান চাষের পর বেশিরভাগ জমিতেই কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হয় না।
এই বিশাল পরিমাণ জমি বছরজুড়ে অনাবাদী থাকার পেছনে প্রধানত তিনটি কৃষি-পরিবেশগত বাধা কাজ করে-
মাটি ও ভূ-উপরিস্থ পানির লবণাক্ততাঃ
নভেম্বর থেকে মে মাসের শুষ্ক মৌসুমে সমুদ্রের নোনা পানি নদীতে প্রবেশ করে এবং মাটির কৈশিক নালীর মাধ্যমে ওপরে উঠে এসে মাটিকে অতি-লবণাক্ত করে তোলে।
বর্ষা শেষের জলাবদ্ধতা ও নিকাশ সমস্যাঃ
নিচু ও মাঝারি নিচু জমিগুলোতে বর্ষার পানি দেরিতে সরে যাওয়ায় রবি মৌসুমের ফসল যথাসময়ে বোনা সম্ভব হয় না।
মিষ্টি সেচের পানির চরম সংকটঃ
সেচের জন্য ভূ-গর্ভস্থ বা ভূ-উপরিস্থ সুপেয় বা মিষ্টি পানির অভাব থাকায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা জমি ফেলে রাখতে বাধ্য হন। এছাড়া জমির মালিক ও বর্গা চাষীদের মধ্যকার অপ্রাপ্তি এবং কৃষি শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরিও জমি অনাবাদী রাখার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ।
২. ফসলি জমির বিন্যাস ও নিবিড়তার পরিসংখ্যান সারাদেশে যেখানে শস্য নিবিড়তা বা ক্রপিং ইনটেনসিটি প্রায় ২১৪ শতাংশ (অর্থাৎ গড়ে একটি জমিতে বছরে দুটির বেশি ফসল হয়), সেখানে দক্ষিণাঞ্চলের শস্য নিবিড়তা মাত্র ১৩০ থেকে ১৬০ শতাংশের মধ্যে সীমিত।
আবাদযোগ্য মোট জমির ব্যবহারের বিচারে এই অঞ্চলের ক্রপিং প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করলে নিচের চিত্র পাওয়া যায়:
এক ফসলী জমি:
দক্ষিণাঞ্চলের মোট আবাদযোগ্য জমির প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ এখনো এক ফসলী জমি হিসেবে রয়ে গেছে। এই জমিগুলোতে কেবল বর্ষাকালে বৃষ্টিভিত্তিক রোপা আমন ধানের চাষ হয়। আমন কাটার পর পুরো শীতকাল ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে এই জমিগুলো সম্পূর্ণ পতিত পড়ে থাকে।
দুই ফসলী জমি:
দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ জমিতে বছরে দুটি ফসল উৎপাদিত হয়। সাধারণত আমন ধান কাটার পর যেসব স্থানে লবণাক্ততা কিছুটা কম বা সামান্য সেচের সুযোগ থাকে, সেখানে মুগডাল, সূর্যমুখী, সরিষা, তরমুজ, খেসারি কিংবা ভুট্টা চাষ করা হয়।
তিন ফসলী জমিঃ
দক্ষিণাঞ্চলে তিন ফসলী জমি তুলনামূলকভাবে কম, যার পরিমাণ প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। যেসব নদী ও জলাশয়ে মিষ্টি পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম বা নিচু বেড়বাঁধ রয়েছে, কেবল সেখানেই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রোপা আমন, রবি ফসল এবং বোরো বা আউশ ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
ফসল বঞ্চিত হওয়ার পরিমাণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্য ক্ষতি-
বিশাল পরিমাণের আবাদযোগ্য জমি অনাবাদী থাকা এবং এক ফসলী জমির আধিক্যের কারণে দক্ষিণ বঙ্গ প্রতি বছর খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসলের বিশাল সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কৃষি বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের পতিত এবং এক ফসলী জমিগুলোকে যদি অন্তত দুই বা তিন ফসলী জমিতে রূপান্তর করা যায়, তবে বছরে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও কৃপিপণ্য জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হতে পারে।
ফসলভিত্তিক ক্ষতির মাত্রা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে-
দানাদার খাদ্যশস্যঃ
বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ মেট্রিক টন ধান, ভুট্টা ও গম ফলানো থেকে এই অঞ্চল বঞ্চিত হচ্ছে।
ডাল ও তেলবীজ ফসলঃ
দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া মুগডাল, সূর্যমুখী, সয়াবিন ও সরিষা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অথচ জমি পতিত থাকায় বার্ষিক প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন অত্যন্ত প্রোটিন ও তেলসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে না।
সবজি ও অর্থকরী ফসলঃ
শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন তরমুজ, আলু, মিষ্টি আলু, টমেটোসহ নানা জাতের সবজি থেকে বছরে আরও প্রায় ২ লক্ষ মেট্রিক টন সম্ভাব্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির আর্থিক মূল্যঃ
ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রতি বছর দক্ষিণাঞ্চল আনুমানিক ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য কৃষি রাজস্ব ও কৃষকের প্রত্যক্ষ আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে কেবল অঞ্চলটির কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থানই পিছিয়ে পড়ছে না, বরং জাতীয় পর্যায়েও খাদ্যের সার্বিক যোগানে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত ও গবেষণাভিত্তিক সমাধান-
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটগুলোর সাম্প্রতিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের পতিত জমিকে আবাদে ফিরিয়ে আনার বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে:
১. লবণাক্ততাসহিষ্ণু জাতের ব্যবহারঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু ধানের জাত (যেমন: ব্রি ধান৬৭, ব্রি ধান৭৩, ব্রি ধান৯৭, বিনা ধান১০) ব্যবহার করে শুষ্ক মৌসুমেও ধানের ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
২. স্বল্পমেয়াদী আমন ধান চাষ: আমন মৌসুমে স্বল্পমেয়াদী ধানের জাত (যেমন: ব্রি ধান৭৫ বা ব্রি ধান৮৭) চাষ করলে জমি দ্রুত ফাঁকা হয়, ফলে মাটিতে আর্দ্রতা থাকতেই শীতকালীন রবি ফসল বোনা যায়।
৩. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচঃ
বর্ষাকালের উপচে পড়া মিষ্টি পানি খাল, জলাশয় ও খাস পুকুরে ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ড্রিপ বা স্মল-স্কেল সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে রবি ফসলে সেচ দেওয়া সম্ভব।
৪. সর্জন পদ্ধতি ও উঁচু বেড তৈরিঃ উপকূলের পলিযুক্ত নিচু জমিগুলোতে 'সর্জন পদ্ধতি' (একই সাথে নালা কাটা ও উঁচু বেড তৈরি) প্রয়োগ করে একদিকে মাছ ও নালায় কচু এবং বেডের ওপর সবজি ও ফলমূলের সমন্বিত চাষ সফলভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের এই অনাবাদী জমিগুলোকে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষি কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কৃষি নীতিঃ ভর্তুকি ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ -
বিগত শেখ হাসিনার সরকার তাদের মেয়াদে কৃষিখাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই আমলে আন্তর্জাতিক বাজার বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো সংস্থার নানা আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়।
কৃষি ভর্তুকির বিপুল বৃদ্ধিঃ
সারের মূল্য কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে সারে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল মাত্র ১,০৯৫ কোটি টাকা, তা বেড়ে সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোতে বছরে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রণোদনাঃ
দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা এবং প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) ও হাইব্রিড জাতের ধান, ডাল, সরিষা, সূর্যমুখী ও সবজির বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দেশের লাখ লাখ কৃষক সরাসরি এই সহায়তা লাভ করতেন।
কৃষি ডিজিটালাইজেশন ও কার্ডঃ
প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ কৃষকের মাঝে 'কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড' বিতরণ করা হয়, যার মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারের অনুদান ও সারের ভর্তুকি সুবিধা পৌঁছানোর ব্যবস্থা তৈরি করা হয়।
প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণঃ
৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার, রোপণযন্ত্রসহ আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়, যার ফলে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটে এবং খাদ্যে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।
পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কৃষিখাতে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো কৃষিখাতেও স্থবিরতা ও নানা প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা এবং তদারকির অভাবে কৃষক পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে।
সার সরবরাহ ও বিতরণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাঃ
সরকার পরিবর্তনের পর সার বিতরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা এবং নীতিগত সংস্কার আনা হলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চরম হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ডিলার ও সাব-ডিলার কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে সময়মতো সারের সুষম বরাদ্দ বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সার পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন কিংবা অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে।
কৃষি প্রণোদনা ও তদারকির অভাবঃ
পূর্বের সরকারের মতো প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সময়মতো বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও মনিটরিংয়ের অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কৃষক সহায়তার গতি থমকে গেছে।
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার সংকটঃ
ডিজেল, বিদ্যুৎ, সার ও কীটনাশকের দামের ঊর্ধ্বগতির বিপরীতে সরকার থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সঠিক সময়ে উপকরণ না পাওয়া এবং দামের অনিশ্চয়তার কারণে দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের অনেক অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক জমি আবাদে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যা প্রকারান্তরে অনাবাদী জমির পরিমাণ বাড়াতে ইন্ধন জোগাচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত ও এক-ফসলী জমিকে আবাদের আওতায় এনে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে হলে কৃষিখাতকে অবহেলা না করে সারে ভর্তুকি, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
Comments