রাশিয়াসহ ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক
মানব পাচার প্রতিরোধ ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নজরদারি জোরদার করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে রাশিয়া এবং জাপানসহ ১২টি দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মীকে বহির্গমন ছাড়পত্র (ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স) না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ১২টি দেশের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশগুলো হলো: রাশিয়া, জাপান, ইরাক, লিবিয়া, সার্বিয়া, মলদোভা,বেলারুশ,কঙ্গো,লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইউক্রেন।
মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর জনশক্তি রপ্তানিকারক সংগঠন বায়রা (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ) তাদের সব সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বে নির্দিষ্ট সংখ্যক (সাতটি পর্যন্ত) নিয়োগের চাহিদাপত্রের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হতো না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকে নকল নিয়োগপত্র তৈরি করে কর্মী পাঠানোর অনিয়মে জড়াচ্ছিল। নতুন নিয়মের ফলে প্রতিটি চাহিদাপত্রের ক্ষেত্রে অনুমোদন নিতে হবে, যা জবাবদিহি ও নজরদারি বাড়াবে।
কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকে রেখে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করার মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া রাশিয়াগামী কর্মীদের একটি বড় অংশ নানা প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞ ও স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, শুধু ভিসা পাওয়া বা চাকরির প্রস্তাব নিরাপদ অভিবাসনের নিশ্চয়তা দেয় না। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ, নিয়োগকর্তার বৈধতা, চাকরির চুক্তিপত্র, বেতন-ভাতা এবং বাংলাদেশের সরকারি অনুমোদন সঠিকভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি অনুমোদন ও ছাড়পত্র নিশ্চিত না হয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comments