বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ, সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ার প্রস্তাব
দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জোরালো প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত সোমবার (২ নভেম্বর) সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্মেলনে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা এই অঞ্চলের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এমন সব বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে, যা স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ও সাপ্লাই চেইনের ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।
মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় বর্তমানের প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা এবং দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান সুষম করার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নানা সময়োপযোগী উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য সফলভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, যুদ্ধের প্রভাব ও জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে এসব কর্মসূচি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় তিন শতাধিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের ফাঁকে ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ সময় তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং চ্যান্সেরি প্রাঙ্গণে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন।
এছাড়া সফরকালে তিনি পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্বমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল, জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
Comments