ডিসেম্বরে অরাজকতা করে কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক
ডিসেম্বর মাসে অরাজকতা সৃষ্টি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরের দিকে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ন্যূনতম মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় এই পরিদর্শন চালান তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, "গার্মেন্টস আন্দোলনের নামে যা হচ্ছে, তা কেবল পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন নয়। এর সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা কেন সম্পৃক্ত থাকবে?"
তিনি আরও বলেন, দুষ্কৃতকারীরা অহেতুক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়ে পালিয়ে যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, "রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমার একটি নৈতিক দায়িত্ব। সে কারণেই আমি পরিস্থিতি পরিদর্শনে এখানে এসেছি।"
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নগরবাসীর ভোগান্তি যাতে না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। এই ভোগান্তিতে যারা ইন্ধন যোগাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁরা সবসময় জনগণের পাশে আছেন এবং থাকবেন। রাস্তাঘাটে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কঠোরভাবে দমন করবে এবং এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তাঁর দলও প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে। রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে বলে জানান তিনি।
Comments