আমি বাংলাদেশে আর বিনিয়োগ করব না: সালমান মুক্তাদির
ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংকট, স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছেন জানিয়ে নিজের আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো স্টুডিও পরিচালনা কিংবা নতুন করে বড় কোনো বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা তাঁর নেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'গ্যাপ'-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সালমান। গত শনিবার (১ নভেম্বর) ঢাকার মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতি পাওয়া ছবিটির প্রদর্শনী শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রতি কোনো বার্তা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান মুক্তাদির বলেন, "সরকারকে কিছু বলার মতো কোনো সুযোগ এখনো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমি উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম এবং খুব আন্তরিকতার সঙ্গেই প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তাই আমার মনে হয়, আমি কিছু বললেও তা শোনার মতো কোনো উপযুক্ত পরিবেশ বা সুযোগ তৈরি হয়নি।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যাদের এ বিষয়ে কথা বলা উচিত, তাঁরা কথা বললে সেটাই বেশি ফলপ্রসূ হয়। আমরা সাধারণ নাগরিকেরা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি, যার অভিজ্ঞতা ভালো বা খারাপ হতে পারে। কিন্তু এ নিয়ে কথা বলে বিশেষ কোনো পার্থক্য তৈরি হয় না; বড়জোর কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয় কিংবা সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।"
নিজের বর্তমান ব্যক্তিগত অবস্থা তুলে ধরে সালমান বলেন, "এই মুহূর্তে আমরা খুব করুণ একটি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং একটি বড় বিপদ অতিক্রম করার চেষ্টা করছি। আমার কষ্ট হয়েছে, ক্ষতিও হয়েছে—এটা সত্য। তবে এ নিয়ে আমি বসে থেকে দুঃখ প্রকাশ করতে পছন্দ করি না। জীবনে ভালো কিছু চাইলে খারাপ সময়ের জন্যেও প্রস্তুত থাকতে হয় এবং তা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়।"
তাঁকে ঘিরে ঘটা বিভিন্ন ঘটনায় শ্বশুরের নাম জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ঘটনা যখন ঘটে গেছে, তখন তো আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার বা জানার সুযোগ ছিল না। অনেকে আমাকে দোষারোপ করেছেন, কিন্তু আমাকে সামনে বসিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কেউ একজন একটা অভিযোগ করে দিলেন, আর আপনারা তা যাচাই না করে ছড়িয়ে দিলেন—এতে একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার চরমভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের বিষয়ে আমাদের সবারই আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।"
স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার পর দেশ ছেড়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশে কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সালমান মুক্তাদির স্পষ্ট করে বলেন, "দেশে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা আমার কখনোই ছিল না, আগেও ছিল না। স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার পর আমি পরিষ্কার করে বলছি, বাংলাদেশে আমি আর স্টুডিওটি চালিয়ে যাব না। এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—আমি আর বাংলাদেশে কোনো নতুন বিনিয়োগ করব না।"
Comments