মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেলের বাজারে অস্থিরতা, উদ্বেগে বিশ্ব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। আর এই পথ ঘিরেই নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা। তেলবাহী জাহাজে হামলা, সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের টানাপোড়েনে অনিশ্চয়তায় পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার খবর জানায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তবে এসব ঘটনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানি আমদানির খরচ। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব থেকে বাইরে নয় বাংলাদেশও। দেশের জ্বালানি আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালিনির্ভর। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আসে। সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিলে বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, তৈরি হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও নিত্যপণ্যের বাজারেও।
তবে সংকট কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর। বিকল্প পথে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলেও সব সরবরাহ সহজে অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
Comments