সারাদেশে পাসের হার কমলেও মতিঝিল আইডিয়ালে ৯৮.২১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৭ জন
রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬-এর এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ৯৮.২১ শতাংশ। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৮০৫ জন শিক্ষার্থী , এর মধ্যে অ্যাপিয়ার্ড ছিল ১৭৯১ জন এবং পাস করেছেন ১৭৫৯ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৭ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লাল মোহাম্মদ এ তথ্য জানান।
এ বছর ৯টি সাধারণ এবং মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। । গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে গড় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এ বছর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ প্লাস পান রুবাইদা ইসলাম। তিনি জানান, 'মানবিক শাখা থেকে এ বছর আমি এ প্লাস পেয়েছি, তবে ইচ্ছা ছিল "গোল্ডেন এ প্লাস" পাওয়ার। আমার এসএসসিতে "গোল্ডেন এ প্লাস" ছিল। আমার আজকের জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে আমার মায়ের অবদান সবথেকে বেশি।'
এসএসসি পাস করার পরে এখন ভবিষ্যতের প্ল্যান কী, তিনি বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার তার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি সাংবাদিকতা এবং ল নিয়ে পড়ার ইচ্ছাও রয়েছে।
রুবাইদা ইসলামের মা পারভীন বেগম জানান, 'আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। আমার মেয়েই সবার ছোট। আমার অনেক আনন্দ লাগছে, তবে আরও আনন্দ পেতাম যদি আমার মেয়ে "গোল্ডেন এ প্লাস" পেত। এবারের পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি তো আপনাদের সবারই জানা। এরপরেও আলহামদুলিল্লাহ আমার মেয়ে এ প্লাস পেয়েছে, তাতেই অনেক খুশি।'
আরেক শিক্ষার্থী অর্পিকা আফ্রিন ইকরা জানান, মা পাশে না থাকলে ভালো ফলাফল ও তার পক্ষে এত দূর আসা সম্ভব হতো না। আজকের অবস্থানে আসার পেছনে শিক্ষকদের পাশাপাশি তার মায়ের বড় অবদান রয়েছে। শিক্ষকদের বকাঝকা ও নিয়মিত পড়াশোনার চাপ তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। মা পাশে না থাকলে তার পক্ষে এত দূর আসা সম্ভব হতো না।
এবারের পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, রসায়নের কয়েকটি প্রশ্ন ছিল বিভ্রান্তিকর। পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নও তুলনামূলক কঠিন হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে পানি মাড়িয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরবর্তী পরীক্ষায়ও প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
এখন তো এইচএসসি পাস করলেন, আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী– জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি যেহেতু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, আমার ইচ্ছা মেডিকেল কলেজে পড়ার। সামনে যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা আছে, তার জন্য প্রিপারেশন নিতে হবে।'
Comments