১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার, জিপিএ-৫ পেল ৪০ হাজার শিক্ষার্থী
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে, সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
সারা দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এ ছাড়া কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৮ আগস্টের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে সব বোর্ডের ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ হয়।
এদিকে, গত এক দশকের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ হয়। ২০১৯ সালে পাসের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ শতাংশে।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হলেও সব পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ফলে ওই বছর পাসের হার ছিল ১০০ শতাংশ। পরের বছর ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮৪ দশমিক ৩১ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
তবে ২০২৫ সালে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
Comments