রান্না থেকে সফল নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা রুমা
ঘরে বসেই কেক ও কুকিজ তৈরি ও রান্নার প্রশিক্ষণ দিয়ে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন গোপালগঞ্জের জাকিয়া সুলতানা রুমা। নিজের উদ্যোগে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি অন্য নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতেও কাজ করছেন তিনি। দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রশিক্ষণ। ঘরে বসে না থেকে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই সফল নারী উদ্যোক্তা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকার জাকিয়া সুলতানা রুমা। স্বামী চাকুরী করলেও সন্তান আর সংসার সামলে হতে চেয়েছিলেন উদ্যোক্তা। রান্না করার শখ থেকেই প্রশিক্ষল নিয়ে জাকিয়া সুলতানা রুমা গড়ে তোলে নিজ নামে "রুমার যুব রান্না ঘর"। কেক ও কুকিজ তৈরির মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসাবে এগিয়ে যান। সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন আত্মনির্ভরশীল। ইতিমধ্যে তার তৈরী কেক ও কুকিজ সারা ফেলেছে জেলা জুড়ে। এতে তার প্রতিমাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
জাকিয়া সুলতানা রুমার এই উদ্যোগ শুধু নিজের কর্মসংস্থানই তৈরি করেনি, বরং অন্য নারীদের জন্যও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে রান্না, ব্লক, বাটিকসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন রুমা। ইতিমধ্যে তার হাত ধরে শতাধিক নারী উদ্যোক্ত হয়েছেন। এছাড়া দুই শিফটে তার কাছ থেকে আরো ৫০জন নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শুধু নারীরাই নয় প্রশিক্সণ দিচ্ছেন যুবকদেরও। ঘরে বসে সময় নষ্ট না করে নিজেদের আগ্রহ ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে আয়মুখী কাজে যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এই নারী উদ্যোক্তা।
স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে তার এই উদ্যোগ অন্য নারীদেরও অনুপ্রাণিত করছে। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি অন্য নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার মধ্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান এই উদ্যোক্তা।
জাকিয়া সুলতানা রুমা বলেন, নারীরা চাইলে নিজেদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ঘরে বসেই আয় করতে পারেন। প্রয়োজন শুধু আত্মবিশ্বাস, উদ্যোগ নেওয়ার মানসিকতা এবং কাজ শেখার আগ্রহ। নারীদের পিছিয়ে না থেকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য এগিয়ে আসা উচিত।
জাকিয়া সুলতানা রুমার প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন এবং নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখবেন।
প্রশিক্ষণার্থী হীরা মনি বলেন, আমার স্কামী একজন সরকারী চাকুরীজীবী। তারপরেও নিজ কিছু করার চেষ্ঠা করছি। জাকিয়া সুলতানা রুমার আপার কাছে থেকে রান্না ও কেক তৈরির কাচ শেখেছি। এখন আমি নিজে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এতে আমি সাবলম্বী হয়ে উঠেছি।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতি: দায়িত্ব) লাখসানা লাকী বলেন, আমরা এমন সব উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। যাতে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে তৈরী করতে পরে। যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা হয়। এছাড়া আমরা স্বল্প ঋণ দিয়ে থাকি। যাতে তারা তাদের ব্যবসা বড় করতে পারে। যে কোন উদ্যোক্ত আবেদন করলে তাদের আমরা সহযোগীতা করবো।
Comments